কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের চরকামালপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
রোববার দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন উপজেলার চরকামালপুর গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাফি উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তাদের গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে সবুজ মিয়া ও আবুল হাসান ওরুফে বাচ্চু, মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে হাবিবুল্লাহ্, মৃত আরশ মিয়ার ছেলে মুরছালিন মিয়া, বাবুল মিয়ার ছেলে ওবায়েদুল্লাহ ও আবুল হাসান ওরফে বাচ্চু মিয়ার মেয়ে জোনাকি বেগমসহ ১৫-২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে পাকা ধানের জমিতে প্রবেশ করে জোর পূর্বক ধান কাটতে থাকে। এ সময় বাধা দিলে প্রতিপক্ষের লোকজন সাফি উদ্দিনের ওপর হামলা করে তাকে মারধর করে। সাফি উদ্দিনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় মানিক মিয়া, শাহীন শাহ আলম ও আইনুন নাহার গুরুতর রক্তাক্ত আহত হন। পরে তাদের ডাক চিৎকারের এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। আহত মানিক মিয়া ও শাহীন শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর দেখে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত দু’জনকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠান।
এ ঘটনায় আহত সাফি উদ্দিন বাদি হয়ে সবুজ মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ওই দিন কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে কুলিয়ারচর থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে হামলা ও মারধরের ঘটনা অস্বীকার করে অভিযুক্ত সবুজ মিয়া জানান, তারা তাদের জমি থেকে ধান কাটতে গেলে সাফি উদ্দিন লোকজন নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। হামলায় তিনিসহ তাদের চারজন আহত হয়েছেন। তিনি নিজে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। জোনাকি ও আবুল হাসান বাচ্চুকে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হলে তাদেরকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।



