ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হাজিরবাজার-গুবুদিয়া সড়কে নয়নপুর স্লুইসগেট-সংলগ্ন সড়কের কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। দুই মাস আগে অতিবর্ষণে সৃষ্ট পানির ঢলে সড়কটির প্রায় দেড় শ’ ফুট ভেসে যায়।
স্থানীয়রা জানান, প্রবল বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হাজিরবাজার-গুবুদিয়া সড়কের নয়নপুর-গাদুমিয়া গ্রামের সীমান্তবর্তী লাউতির খালের স্লুইসগেট-সংলগ্ন এলাকায় প্রায় দেড় শ’ ফুট পাকা সড়ক ভেসে যায়। এতে ওই সড়কে পরিবহনসহ মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি জমিতে উৎপদিত বিভিন্ন সবজিসহ নানা ফসল বাজারজাত করতে ভোগান্তিতে পড়েন কমপক্ষে ১০ গ্রামের কৃষকরা। ফলে পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
উপজেলা মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামের পিকআপ চালক ধনু মিয়া জানান, নয়নপুর দক্ষিণবাজার থেকে হাজিরবাজারের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। নয়নপুর দক্ষিণবাজার থেকে কাঁচামাল নিয়ে তিনি হাজিরবাজার হয়ে ঢাকায় যেতেন। সড়কের কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় তিন কিলোমিটার পথ যেতে প্রায় ১২ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। ফলে ভাড়া তিন থেকে চার গুণ বেশি গুনতে হচ্ছে।
নয়নপুর গ্রামের কৃষক আবদুল গফুর জানান, নয়নপুর, গুবুদিয়াসহ আশপাশ এলাকা থেকে সবজি ও অন্যান্য ফসল নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০ ট্রাক ও পিকআপভ্যান ঢাকায় যাতায়াত করে। তা ছাড়া এই সড়ক হয়ে বিভিন্ন মিলের শ্রমিকবাহী বাস ও অসংখ্য অটোরিকশা প্রতিদিন যাতায়াত করে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের উৎপাদিত সবজিগুলো বিকল্প পথে বাজারজাত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকসহ স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। তা ছাড়া আশপাশ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সবজির আবাদ হয়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কারখানার শ্রমিকসহ স্থানীয়দের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এই এলাকার কৃষকদের।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আকরাম হোসাইন জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে অতিদ্রুত সড়কের ভেঙে যাওয়া অংশটুকু মেরামত করে যানচলাচল উপযোগী করার উদ্যোগ নেয়া হবে। তা ছাড়া বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে।
ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী গৌতম বিশ্বাস জানান, হাজিরবাজার-গুবুদিয়া সড়কের ওই অংশটুকু পানি উন্নয়ন বোর্ডের। অতিবর্ষণের কারণে পানির ঢলে সড়কটির কিছু অংশ ভেঙে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে রাস্তাটি মেরামতের জন্য অতিদ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।