পূর্ব ঘটনার জের ধরে কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজে বহিরাগত কর্তৃক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল বাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে নগরীর টমছম ব্রিজে ইউটার্ন নেয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন বিভাগের কমপক্ষে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ সময় হামলাকারীদের মধ্য থেকে মো: রাকিব নামের একজনকে ধরে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টরিয়াল বডি রাত সাড়ে ৯টায় তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় করে।
এ সময় চালক ও হেলপারকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাকিল আহম্মেদ, অর্থনীতি ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শেখ মাসুম, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জুবায়ের মাহমুদ সাকিব ও আব্দুল বাসেদ, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আদনান হোসেন শাহেদ, রিফাতুল ইসলাম, মো: আতিক রহমান ও বাস ড্রাইভার সুমন দাশ ও হেলপার মো: জহিরুল ইসলাম।
খোজঁ নিয়ে জানা যায়, এর আগে গত ২৮ মে রাত ৮টায় নগরী থেকে ছেড়ে আসা নীল বাস টমছম ব্রীজ সংলগ্ন ইউটার্ন পার হওয়ার সময় বাস হেলপার এক অটোরিকশাকে সাইড দিতে বলায় ক্ষিপ্ত হয় দুই যাত্রী। এ সময় বাসচালক ও হেলপারের সাথে তাদের বাকবিতণ্ড হয়। বাকতিতণ্ডার এক পর্যায়ে বাস হেলপারকে মারতে এলে শিক্ষার্থীরা নেমে হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এরই জের ধরে আজ পুনরায় হামলা করেন ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি গ্রুপ। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
হামলায় আহত জুবায়ের মাহমুদ সাকিব বলেন, টমছম ব্রিজে ইউটার্ন নেয়ার সময় ২৫ থেকে ৩০ জন লোক আমাদের বাসে অতর্কিত হামলা করে। এতে আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তাদের হাতে লাঠি-শোঠা, স্টেইলেস স্টিল, এসএস পাইপ এবং বাঁশ ছিল। হামলার পর আমরা কয়েকজন মিলে তাদের দৌড়ে ধরার চেষ্টা করি। আমি যখন ওদের ধরতে যাই, তখন এস এস পাইপ দিয়ে আমার ডান হাতে আঘাত করে। এতে আমার ডান হাতের কনুই মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
আঘাতপ্রাপ্ত আদনান হোসাইন শাহেদ বলেন, ‘আমি বাসে জানালার ডান পাশেই বসছিলাম, তারা ওই দিক দিয়েই আঘাত করে। তখন আমি হাতের কনুইর মধ্যে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।’
এ বিষয়ে কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস এম আরিফুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের অবগত করছে আমরা আসছি। যে ছেলেটা অপরাধী তাকে আমাদের হেফাজতে নিই। আর যারা যারা আঘাতপ্রাপ্ত তাদের নাম ঠিকানা নিছি। তারা যদি মামলা করে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, শহরে বহিরাগতরা আমাদের শিক্ষার্থী বাসে হামলা করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা বহিরাগতদের মধ্য থেকে একজনকে ধরে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে। নিয়ে আসার পর আমরা প্রক্টরিয়াল বডি পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে প্রক্টরিয়াল অফিসে নিয়ে আসি। পুলিশ প্রশাসন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।



