নওগাঁর রাণীনগরে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন শ্বশুর শহিদুল ইসলাম (৪৫)। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার একডালা ইউনিয়নের ওপর তালিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শ্বশুর শহিদুল ইসলাম ওই গ্রামের চয়েন আলীর ছেলে এবং জামাই ময়নুল ইসলাম (২৪) একই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। এ ঘটনায় জামাইকে ধরতে থানাপুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

আহত শহিদুলের স্ত্রী রেখা বিবি জানান, গত সাত বছর আগে তার মেয়েকে ময়নুলের সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর কিছু দিন সংসার ভালো চললেও জামাই-মেয়ের মধ্যে নানা কারণে দ্ব্ন্দ্ব শুরু হয়। একপর্যায়ে জামায় ময়নুল মাদকাশক্ত হলে নেশা করে বাড়িতে ফিরে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতন সইতে না পেরে গত দুই মাস আগে মেয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে। হঠাৎ করেই বৃহস্পতিবার ভোর অনুমান সাড়ে ৪টা নাগাদ জামাই ময়নুল ও জামাইয়ের বাবা খালেক এসে দরজায় ডাকা-ডাকি শুরু করে। এ সময় শহিদুল ইসলাম দরজা খুলে দেয়া মাত্রই জামাই ময়নুল শহিদুলকে ছুরিকাঘাত করে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীর লোকজন শহিদুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রাণীনগর হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে অস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ নগর হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

রেখা বিবি আরো জানান, শহিদুলের শরীরে প্রায় ২৪টি সেলাই দিতে হয়েছে।

এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি জানিয়ে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ বলেন, খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু জামাই ময়নুল ও তার বাবা খালেক পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।