খুলনার পাইকগাছায় পাঁচ মেয়েসহ নিজ স্ত্রীকে সমুদয় সম্পতি থেকে বঞ্চিত করে ছেলের নামে সব লিখে দেয়ায় বাবার মৃত্যুর পর লাশ দাফন আটকে দেয় মেয়েরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) পাইকগাছা থানা ওসির হস্তক্ষেপে লাশটি দাফনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর আগে উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের ঘোষাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে বাবার মৃত্যুর পর সম্পতি লিখে দেয়ার ঘটনা জানাজানি হলে লাশ দাফনের ব্যবস্থা না করেই বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যায় পাষণ্ড ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার গদাইপুরের ঘোষাল এলাকার মরহুম কওসার গাজীর ছেলে সওকাত গাজী কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার ভোর রাতে খুলনার একটি হাসপাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে ওই দিন সকাল ৮টায় তার লাশটি বাড়িতে নেয়া হয়। তার পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলেসহ স্ত্রীকে রয়েছেন। তবে তিনি অসুস্থ্য হলে তার ছেলে মানুন তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে সকলের হক বঞ্চিত করে সমুদয় সম্পত্তি বাবার থেকে কৌশলে লিখিয়ে নেয়। এ ঘটনা স্বজনদের অজানাই ছিল।
এরপর ওই দিন সকালে তার লাশ বাড়িতে পৌঁছালে দাফনের জন্য গোসল করাতে নিলে সাকাত গাজীর হাতের বুড়ো আঙ্গুলে কালির ছাপ দেখা যায় (টিপ সইয়ে ব্যবহৃত)। তারপর সম্পত্তি লিখে নেয়ার ঘটনা আঁচ করতে পেরে মৃতের পাঁচ মেয়ে মিলে বাবার লাশ দাফনে বাধা দেয়। আর শরীক ফাঁকি দেয়ায় স্থানীয়রাও তার জানাজাসহ লাশ দাফন করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে মঙ্গলবার থেকে দু’দিন লাশটি বাড়ির উঠানেই পড়েছিল।
এদিকে ঘটনার জানাজানি ও বাড়িতে পুলিশ উপস্থিত হলে বুধবার সন্ধ্যায় মামুন বাবার লাশ ফেলে রেখেই বাড়ি থেকে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যা্য়। তবে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে থানার ওসির হস্তক্ষেপে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
এ ব্যাপারে মৃত সওকত গাজীর মেয়ে লাবনী আক্তারসহ ভুক্তভোগী সকলেই বলেন, বাবার অসুস্থতার সুযোগে চিকিৎসার নামে তাদের ভাই মামুন কাউকেই কিছু না জানিয়ে সমুদয় সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছে। যার ফলে বাবার লাশ দাফনে তারা বাধা দিয়েছিল।
স্থানীয় ঘোষাল জামে মসজিদের ইমাম বেলাল হোসেন বলেন, সওকাত গাজীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে মঙ্গলবার বাদ জোহর জানাজার ঘোষণা দেয়া হয়। তবে মৃতের পাঁচ মেয়ে এসে তাদের জমির হক বঞ্চিত করায় জনাজা এবং লাশ দাফনে বাধা দেয়। ফলে মুসল্লীসহ গ্রামবাসী জানাজা নামাজ না পাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েদের সম্পত্তির হক বঞ্চিত করায় তারা বাবার লাশ দাফনে বাধা দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হক বঞ্চিত মেয়েদেরসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গ্রামবাসীদেরর সাথে কথা বলে মেয়েরা চাইলে তাদেরকে সার্বিক আইনি সহযোগিতাও করা হবে বলে জানানো হয়। সর্বশেষ থানা পুলিশ, ইমাম বেলাল হোসেন, মাওলানা আহমদ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শত শত মানুষের উপস্থিতে বৃহস্পতিবার মৃতের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।



