কক্সবাজারের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখা মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের এ স্থানটিতে বসে এক ব্যক্তি দেশে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাত ধরেই সারা দেশে পৌঁছে যাচ্ছে কোটি কোটি পিস ইয়াবা। এতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। এদের মধ্যে অভিযুক্ত রোহিঙ্গার নাম নবী হোসেন। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে তিনি কক্সসবাজারের উখিয়া পালংখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাফরুল ইসলাম ওরফে বাবুলসহ আরো চার-পাঁচ রোহিঙ্গাকে দিয়ে তা বিক্রি করে দেন বিভিন্ন স্থানে। এক বাবুলের হাত ধরেই প্রতি মাসে দেশে ইয়াবার চালান ঢুকে ৪০-৫০ লাখ পিস। সব মিলিয়ে নবীর ছত্রছায়ায় দেশে প্রতি মাসে কয়েক কোটি ইয়াবার চালান ঢোকে।
জানা গেছে, জনপ্রতিনিধি বাবুল আগে সারাক্ষণই পড়ে থাকতেন নাফ নদীতে বড় এক নৌকায়। তিনি নৌকায় বসে এলাকাসহ চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন। নবী হোসেনের সহযোগী বাবুলকে সম্প্রতি র্যাব গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এসব তথ্য উঠে আসে। এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে রোহিঙ্গা নবী হোসেনকে জীবিত অথবা মৃত ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোহিঙ্গাদের একটি সূত্র জানায়, নবী হোসেন সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের তথ্য পেলেই তিনি মিয়ানমারে চলে যান।
এক দিকে নাফ নদী, আরেক দিকে বঙ্গোপসাগরের অবারিত জলরাশি। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমানা ভাগকারী এই দুই বিশাল জলপথে প্রতিনিয়তই প্রবেশ করছে মরণ নেশা ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইসসহ নানা মাদক। বিজিবি-কোস্ট গার্ড এক দিকে টহল বাড়ালে অন্য দিক দিয়ে নিত্যনতুন কৌশলে যেন ঢলের মতো ঢুকছে মাদকের চালান। জল পথ ছাড়াও বান্দরবান, নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের পাহাড়ি অঞ্চল দিয়েও আসছে ইয়াবা। কঠোর অভিযান সত্ত্বেও মাদক চক্রের ভয়ঙ্কর তৎপরতায় উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু পুলিশ নয়, কোস্ট গার্ড-বিজিবি র্যাব সবাই সতর্ক। কিন্তু তার পরও বন্ধ করা যাচ্ছে না। এক স্থানে বা এলাকায় বাধা দিলে উল্টো আরেক এলাকা দিয়ে ঢুকছে কারবারিরা। জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ মূলত ইয়াবা ও আইস প্রবেশের মূল পয়েন্ট। সেখানকার স্থানীয় চিহ্নিত ও উঠতি মাদক কারবারিরা মিয়ানমারের চক্রের সাথে মিলেমিশে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে। এতে বড় ভূমিকা রাখছে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত একশ্রেণীর রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা মাদক কারবারিরা স্থানীয়দের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কসহ নানা ধরনের আত্মীয়তার বন্ধন গড়ে তুলে ইয়াবার কারবারের সুযোগ করে নিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে উখিয়া-টেকনাফের কিছুসংখ্যক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার শেল্টার রয়েছে। এসব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অনেকেই চিহ্নিত বা আত্মসমর্পণকারী মাদক কারবারি। তারা গ্রেফতার হয়ে কারাগগারেও ছিলেন। জামিনে মুক্তি পেয়েই তারা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেন ইয়াবা কারবারে। গত কয়েক ধাপের নির্বাচনে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে মেম্বার পদে বেশ কয়েকজন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মাদক কারবার নির্বিগ্নে চালাতেই তারা বেছে নেন জনপ্রতিনিধি হওয়ার কৌশল। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এলেই তারা বিপুল পরিমাণ টাকা ছড়িয়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে ছলে বলে কৌশলে নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচনে অনেক সময় তারা হেরেও যান।
রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, একের পর এক হত্যাকাণ্ড, মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে রোহিঙ্গা শিবিরে সারাক্ষণই অস্থিরতা বিরাজ করে। এ কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদকের ভয়াবহতা এত বেশি। রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয় মাদক কারবারিরাও জড়িত। ক্যাম্পে বিভিন্ন অপরাধী দল সক্রিয়। এসব অপরাধী দলের নেতৃত্বে চলে মাদক কারবার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, আধিপত্য বিস্তারে সশস্ত্র মহড়া, অপহরণ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের উখিয়া উপজেলা আহ্বায়ক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, যে পরিমাণ ইয়াবা বা মাদক আটক হচ্ছে, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চালান লোকচক্ষুর আড়ালে ঢুকে পড়ছে।
উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত ইয়াবা ও আইস প্রবেশের মূল পয়েন্ট
কক্সবাজারের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখা মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের এ স্থানটিতে বসে এক ব্যক্তি দেশে ইয়াবা,...



