অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন বরগুনার বেতাগী উপজেলার সিমা আক্তার। এখন তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। সিমা বেতাগী সদর ইউনিয়নের রানীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি বেসরকারি সংস্থা ‘ব্যুরো বাংলাদেশ’ থেকে অব্যাহতি পেয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে লিখিত একটি অভিযোগ জানান।
এতে তিনি বলেন, ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর ব্যুরো বাংলাদেশ সংস্থায় যোগদান করেন তিনি। এ বছরের ১৬ আগস্ট তিনি নড়াইল লক্ষ্মীপাশা শাখায় কর্মসূচি সংগঠক পদে যোগদান করেন। সংস্থার নিয়মানুসারে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিতরণকৃত ঋণের টাকা উত্তোলন করতে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয় কর্মসূচি সংগঠক কর্মীদের। এতে সিমা আক্তারের স্বামী মনিরুল ইসলাম নিজের মোটরবাইকে স্ত্রীকে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতে সহযোগিতা করতেন। এতে বাদসাধেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নড়াইল লক্ষ্মীপাশা শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহকারী কর্মসূচি সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, শাখা ব্যবস্থাপক ইউনুস আলী ও হিসাবরক্ষক আসাদুজ্জামান কর্মসূচি সংগঠক সিমা আক্তারকে মোটর বাইকে চলাচলে নিষেধ করেন। তারা বলেন স্বামীর সাথে মোটরবাইকে চলাচল করা যাবে না। অফিসের স্টাফদের সাথে চলাচল করতে হবে। একপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে কুপ্রস্তাব দেয়।
এ বিষয় ভুক্তভোগী সিমা আক্তার বলেন, তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। এখন তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বড় অসহায় জীবনযাপন করছেন।
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে সহকারী কর্মসূচি সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিমা আক্তারের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ জন্য তার বিরুদ্ধে অফিস ব্যবস্থা নিয়েছে। হিসাবরক্ষক আসাদুজ্জামান ও শাখা ব্যবস্থাপক ইউনুস আলী সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোন কেটে দেন। পরে তাদের সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।