পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদ) আসনে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি জেপি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ। উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এর প্রভাব পড়ছে। অপর দিকে নৌকার মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন মহারাজ ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এবং নির্বাচনী মাঠ দখল করে রেখেছেন।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে লড়তে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান অ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস। তিনি পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি নেছারাবাদ উপজেলার সন্তান। গত রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নৌকার এ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ দিকে গত ১৮ নভেম্বর দলীয় প্রতীক বাইসাইকেল পরিহার করে নৌকা নিয়ে ভোট করতে চান জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান বর্তমান পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। বর্ষীয়ান রাজনীতিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী ঘেঁষা। ১৪ দলীয় জোটের শরিক হলেও এ পর্যন্ত সব নির্বাচনে জেপি দলীয় সাইকেল প্রতীক নিয়েই অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন মেয়াদে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। পিরোজপুর-২ আসনে তিনি সাতবার এবং তার স্ত্রী তাসমিমা হোসেন একবার এমপি নির্বাচিত হন। অপর দিকে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক জেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মহিউদ্দিন মহারাজের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচার-প্রচারণা, সভা-সেমিনার ও নিয়মিত শোডাউন করছেন। ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এহমাম হাওলাদার বলেন, পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদ) আসনের তিনটি উপজেলার একজন ইউপি চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যান ছাড়া সব উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন মহারাজকে বিজয় করতে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে পিরোজপুর-২ আসনের প্রতিটি ওয়ার্ডে তার মতবিনিময় সভা ও নির্বাচনী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মহিউদ্দিন মহারাজকে বিজয়ী করতে মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন মহারাজের আপন ছোটভাই ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, অপর ভাই তেলিখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন হাওলাদারসহ নেতাকর্মীরা। এ আসটিতে সাধারণ মানুষের মন জয় করে মহিউদ্দিন মহারাজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন। সম্প্রতি জাতীয় পার্টি জেপির ভাণ্ডারিয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ নেতা একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। ফলে তাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, সভা-সেমিনার দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
পিরোজপুর-২ আসনের নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। ভোটারদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বর্ষীয়ান রাজনীতিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ প্রতিবেদককে জানান, এখন পর্যন্ত নৌকা পাইনি। ১৪ দলীয় জোটের সাথে বৈঠক হয়নি। বৈঠক হলে অবশ্যই নৌকা পাবো। নৌকা নিয়েই নিজ আসনে ফিরে আসবো। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যারা আমার লোকজনের ওপর হামলা মামলা করছে, তাদের পক্ষে জনগণ থাকবে না। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সাংবাদিকদের জানান, শরিকদের জন্য দুটি আসন খালি রেখে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। জোটের শরিকদের যুক্ত করে আসতে পারে নতুন প্রার্থী তালিকাও। দলটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য আসন ছাড়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।