রাজধানীর মাতুয়াইলে আপন চাচার ছোড়া ঢিলে লাবিব নামে ১ মাস ২২ দিন বয়সের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চাচার নাম মো: খায়রুল (১৯)।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে মাতুয়াইল কবরস্থান রোড কাউন্সিলর অফিস-সংলগ্নে জনৈক শামীমের ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিশুর বাবা দ্বীন ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় লাবিবকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে শিশুটির মৃত্যু হয়।

দ্বীন ইসলামের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার সদাই জঙ্গল গ্রামে। তিনি ইলেকট্রিক সুইচ কারখানার শ্রমিক ও লাবিব তার একমাত্র ছেলে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক (ইনচার্জ) মো: বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন লাবিবের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ও মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃতের বাবা দ্বীন ইসলাম ও চাচারা মিলে চার ভাই। দেড় বছর আগে শিশুর মা বিথির সাথে বিয়ে হয় দ্বীন ইসলামের। বুধবার দুপুরে মা বিথী আক্তার তার একমাত্র সন্তান লাবিবকে গোসল করিয়ে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিলেন। একই সময় দ্বীন ইসলামের সেঝো ভাই খায়রুল তার ছোট ভাই রাব্বির একটি বাইসাইকেল বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সাইকেলটির ব্রেক নেই বলে দ্বীন ইসলাম তাকে বাঁধা দেয়। এ সময় খায়রুল ক্ষিপ্ত হয়ে সাইকেল রেখে চলে যাওয়ার সময় পাশে থাকা একটি মাটির হাড়ি দ্বীন ইসলামের উদ্দেশে ছুড়ে মারে। একপর্যায়ে ছোড়া হাড়িটি পাশের দেয়ালে লেগে এর ভাঙা অংশ গিয়ে শিশুটির মাথায় লেগে গুরুতর আহত হয়। পরে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হয়।

শিশুর দাদা হারেছ মিয়া বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে খায়রুল তার বড় ভাই দ্বীন ইসলামকে ঢিল ছোড়ে। সে ঢিল গিয়ে লাবিবের মাথায় লাগে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির মা বিথী আক্তার সন্তানের মৃত্যুতে শোকে দু:খে আহাজারি করতে করতে বলছিলেন, আমি জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। লাবিব আমার একমাত্র সন্তান। কি নিয়ে থাকব। আমি তো কোনোভাবেই নিজেকে মানাতে পারছি না। আমি শিশু লাবিবকে গোসল করিয়ে কপালে কালো টিপ দেই, যেন নজর না লাগে। তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন জরো হলে শোকের মাতম হয় হাসপাতালে।

এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মফিজুল আলম মোবাইল ফোনে বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ শিশুটির সুরতহাল বিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢামেক হাসপাতাল মর্গেই রাখে। এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হবে।