চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ইছামতি রেঞ্জের সরকারি বাগান উজাড় করে ফ্রি স্টাইলে পাচার হয়ে যাচ্ছে কাঠ ও বাঁশ। শত শত যানবাহনে করে সরকারি বনজ সম্পদ এভাবে পাচার হয়ে যাওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শাসকদলের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যদের পাহারায় চলছে কাঠ পাচারের মহোৎসব। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক ও ইসলামপুর-বগাবিলি সড়ক পথে এভাবে বনের কাঠ পাচার হলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে বন বিভাগ।
বগাবিলি গ্রামের সৈয়দ আলী বলেন, বন বিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতি রেঞ্জের ইসলামপুর বিট, ইছামতি বিট, বগাবিলি বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ উজাড় করা হচ্ছে। এ ছাড়া রানীরহাট বাজারের ইছামতি খাল থেকে ট্রাকে করে বাঁশ পরিবহন করা হচ্ছে। নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত বাঁশ ট্রাকে পরিবহন করায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
ইসলামপুর গ্রামের রমিজ উদ্দিন বলেন, ইছামতি রেঞ্জের আওতাধীন কাউখালী ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবস্থিত সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করে সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, আকাশমণি, গামারীসহ নানা প্রজাতির কাঠ চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক, রাঙ্গুনিয়া ও কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানের ইটভাটায় ও অন্যান্য জ্বালানির কাজে।
রানীরহাট বাজার এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব কাঠ পাচার এখন ওপেন সিক্রেট। অবৈধ কাঠ পরিবহনকারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় একাধিক দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি রাঙ্গুনিয়া পারুয়া ইউনিয়নে বেপরোয়া গতিতে কাঠ পাচারের সময় স্থানীয়রা যানবাহন ও জিপগাড়ি আটকে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো অদৃশ্য ইশারায় সেসব যানবাহন ছাড়া পেয়ে যায়।
কিছু চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে মাঠ পর্যায়ের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশ থাকায় একেবারে বিনা বাধায় কাঠ পাচারের কারণে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সরকারি হাজার হাজার একর বনায়নকৃত অঞ্চল এখন বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে। সেই সাথে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতি রেঞ্জের পিএম আব্দুল আজিজ বলেন, সরকারি বনাঞ্চল ও বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জোতের বাগান থেকে রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে কাঠ পাচার হচ্ছে। বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই এসব করা হচ্ছে। আপনারা যা ইচ্ছে লিখেন, আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের হবেও না কিছু।



