ফসল কাটার মাস অগ্রাহায়ন শেষ হতে চলছে। তবুও ধানকাটা শুরুই করতে পারেননি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার শষ্যভাণ্ডার খ্যাত ধনকা বিলের মাঠের কৃষকরা। কারণ উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের মধ্যে আনুমানিক তিন সহস্রাধিক হেক্টর আয়তনের এ বিলে চাষকৃত আমন ধান এখনো পাকেনি।
কৃষকরা বলছেন, বর্ষার সময় জলাবদ্ধতার কারণে এবার আমন ধান রোপণ করতে প্রায় দেড় মাস বিলম্ব হয়। তাই ধান পাকার সময়টিও পিছিয়ে যায়। গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষায় এরকম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে পুরো বিলজুড়ে।
ধান রোপণের মৌসুমে কেন এই জলাবদ্ধতা? এর কারণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। ভূমি মালিক, কৃষক ও বর্গাচাষিরা বলছেন, গত প্রায় দুই দশক ধরে ধনকা বিল থেকে ক্রমাগত টপ সয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে। এতে প্রতি বছর বিলের জমি নিচু হতে হতে পুরো বিল এখন প্রায় পুকুরের মতো হয়ে গেছে। তাই বর্ষায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে সারা বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
ভূমি মালিক হামিদ বলেন, বিলের দক্ষিণ পাশে পানি নিষ্কাশনের খাল আছে। কিন্তু মাটি উত্তোলনের ফলে খালের চেয়ে বিল এখন অন্তত পাঁচ-ছয় ফুট নিচু হয়ে গেছে। ফলে এই খাল দিয়ে আর পানি নিষ্কাশিত হয় না। জলাবদ্ধতা এখন বিলের নিত্যসঙ্গী। এ কারণে তাদের আমন ধান রোপণ, উৎপাদন ও সংগ্রহের সময়টা পিছিয়ে যাচ্ছে প্রতি বছরই।

এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর আমন ধান কাটা শেষে পৌষ-মাঘ মাসে শুরু হয় ফসলি জমির ওপরের মাটি (টপ সয়েল) কাটার প্রতিযোগিতা। কৃষক জাফর আলম বলেন, বিলজুড়ে ডজন খানেক শক্তিশালী এক্সেভেটর (ভেকু) নামিয়ে রাতদিন টপ সয়েল কাটা শুরু করে কয়েকটি সিন্ডিকেট। শতাধিক ডাম্প ট্রাকযোগে এসব মাটি নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন ইটভাটায়। এভাবে ফের রবি ধান রোপণ পর্যন্ত প্রায় দেড়-দুই মাস চলে ভয়াবহ এ টপ সয়েল কাটার প্রতিযোগিতা। এসব মাটি ধনকা বিলের দু’টি ইটভাটা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আরো অন্তত দশটি ইটভাটা ধনকা বিল থেকে মাটি সংগ্রহ করে! এর ফলে বিলের দো-ফসলি উর্বর মাটি নিচু হতে হতে এখন প্রায় কোমর সমান গভীরতার জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। আর এ কারণে আমনের এ ভরা মৌসুমেও ধানকাটা শুরু করতে পারেননি কৃষকরা।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, এভাবে টপ সয়েল কাটা বন্ধ না হলে শষ্যভাণ্ডার খ্যাত ধনকা বিল পরিত্যক্ত এক জলাভূমিতে পরিণত হতে বেশি দেরি লাগবে না? এমনটি হলে এলাকায় খাদ্যসঙ্কট দেখা দেবে। ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবল চাকমা দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ফসলি জমি থেকে কেউ টপ সয়েল কাটলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।