জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের টানা ছয় মেয়াদের সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক মির্জা আজম। গত তিন মেয়াদ অর্থাৎ ১৫ বছরের তারা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১২২ গুণ।

নবম থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

জামালপুর জেলার মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-৩ আসন। ১৯৯১ সাল থেকে টানা ছয়বার এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা আজম। এবারো তিনি এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এর আগে, দু’বার কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ছিলেন সংসদীয় হুইপ এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী।

নবম থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত মির্জা আজমের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১২২ গুণ। এছাড়াও গত ১৫ বছরে মির্জা আজমের বার্ষিক আয় বেড়েছে ৮২ গুণ। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মির্জা আজমের অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৫ টাকা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ কোটি ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯ টাকা। সর্বশেষ ২০২৩ সালে তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, ১৫ বছর আগে মির্জা আজমের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ছয় লাখ ২৯ হাজার ৬৫২ টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্থাবর সম্পদের মূল্য ছিল ১৩ কোটি ৮২ লাখ ২৮ হাজার ৬২ টাকা। বর্তমানে স্থাবর সম্পত্তি ৩১ কোটি ১০ লাখ আট হাজার ১৯২ টাকা।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা আজমের বার্ষিক আয় ছিল চার লাখ ৪৮ হাজার ১৮৫ টাকা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৬৬ লাখ দুই হাজার ৫৭ টাকায়। অর্থাৎ গত ১৫ বছরে তা বেড়েছে প্রায় ৮২ গুণ। যদিও এবার তিনি জমি বিক্রি বাবদ এক কোটি ৫৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। এছাড়া বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ এক কোটি ৯৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭ টাকা আয় দেখানো হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় বার্ষিক আয় ছিল এক কোটি ২৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ২০১৪ সালে আয় ছিল ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৭৮৬ টাকা। অর্থাৎ ১০ বছরে তার আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ২৭ গুণ।

২০০৮ সালে নির্বাচনের সময় মির্জা আজমের কাছে নগদ ২৩ লাখ ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার কোনো জমানো টাকা কিংবা কোনো বিনিয়োগ ছিল না। এরপর তিনবার সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনের পর তার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ও কোম্পানির শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ টাকা। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালে মির্জা আজমের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে দুই কোটি ৩৯ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি জিপ এবং ১০ কোটি ৬২ লাখ টাকার ব্যবসায়িক মূলধন রয়েছে। এছাড়াও লাখ টাকা মূল্যের একটি শটগান ও একটি পিস্তল রয়েছে।

২০১৮ সালে তার অস্থাবর সম্পদ ছিল ২৭ কোটি ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯ টাকা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ছিল ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৫ টাকা। গত নির্বাচনের সময় তার কাছে নগদ ছয় কোটি তিন লাখ ৫৫ হাজার ৫৩১ টাকা থাকলেও এবার নগদ টাকার পরিমাণ কমেছে। ২০২৩ সালে জমা দেয়া হলফনামায় তার হাতে নগদ ১৯ লাখ টাকা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মির্জা আজম পেশায় ব্যবসায়ী উল্লেখ করে এবারের হলফনামায় ৩১ কোটি ১০ লাখ আট হাজার ১৯২ টাকার স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ কোটি ৬৩ লাখ টাকা মূল্যের ১৭ দশমিক ৬৩ একর কৃষিজমি, ১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা দামের প্রায় দেড় একর অকৃষি জমি, ১১ কোটি সাড়ে ২৮ লাখ টাকা মূল্যের দুটি দালান ও ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকার একটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি।

পাঁচ বছর আগে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার স্থাবর সম্পদের মূল্য ছিল ১৩ কোটি ৮২ লাখ ২৮ হাজার ৬২ টাকা। এর মধ্যে কৃষিজমি দুই দশমিক ৪৫ একর থেকে ১৭ দশমিক ৬৩ একর হয়েছে। তবে এবার তার অকৃষি জমির পরিমাণ কমেছে। ১৫ বছর আগে তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ছয় লাখ ২৯ হাজার ৬৫২ টাকা। তখন তিনি বাড়ি বা কোনো অ্যাপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ করেননি। যদিও ২০১৩ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্থাবর সম্পদের মধ্যে তিনি ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট ও জামালপুরে নয়টি দালানের কথা উল্লেখ করেছিলেন।