এক দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা অন্য দিকে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে সন্তানদের বেড়ানোর ইচ্ছা। এ কারণে কঠিন সমীকরণে অভিভাবকরা। কমসংখ্যক দূরপাল্লার বাস চলাচল করলেও ঝুঁকি নিয়ে অনেকে আসছেন কক্সবাজারে। সাপ্তাহিক ছুটি ও বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে লাখো পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোনের তথ্য মতে, কক্সবাজারে আবাসিক হোটেলের সংখ্যা পাঁচ শতাধিকেরও বেশি। এরই মধ্যে ৭০ শতাংশ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বরকে ঘিরে লাখো পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা। কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় হোটেল ব্যবসায়ীরা অনেকেই কর্মচারীর বেতন দিতে পারেননি। বেশ কয়েকটি খাবার হোটেল এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে আছে। কক্সবাজারের মেহমান পর্যটকেরা আসতে শুরু করলে এই দুশ্চিন্তা কেটে যাবে। এর পরও অন্যান্য বছরের মতো এবার ব্যবসা হবে না। আগে যেখানে এক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতো সেখানে এবার তার অর্ধেক হয় কি না সন্দেহ। ওয়াল্ড বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মাসুম বলেন, বিজয় দিবসের ছুটিতে আমাদের হোটেলে ৭০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গেল কয়েক মাসধরে তেমন কোনো ব্যবসা হয়নি। এই দুই দিনে হয়তো কিছুটা ব্যবসা হবে। এরইমধ্যে অনেক পর্যটক কক্সবাজারে আসতে শুরু করেছেন। ঢাকা থেকে আসা লাভলী ইসলাম বলেন, প্রতি বছর আমরা পারিবারিকভাবে বাজেট করি কক্সবাজারে বেড়াতে আসার জন্যে। ছেলেমেয়েদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছি। তবে এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত। এখানে রাজনৈতিক উত্তাপ নেই। তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি আমাদের। মা-বাবার সাথে বেড়াতে আসা সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমার পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এখন বেড়াতে আসতে পেরে আমি খুব খুশি। সি সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থার কক্সবাজারের ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজুল ইসলাম বলেন, সঙ্কেত থাকার পরও পর্যটকেরা অতি উৎসাহী হয়ে গোসলের নির্ধারিত স্থান অতিক্রম করার কারণে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। চোরাবালিপ্রবণ এলাকায় চলে গেলে এতে অনেকের প্রাণহানি ঘটে। এবার বিজয় দিবস উপলক্ষে আমরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইয়ামিনুর রহমান বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলি পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও লাবণী পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ট্যুরিস্ট পুলিশ ও মাঠকর্মীরা মাঠে থাকবেন। এ ছাড়াও পর্যটকদের সুবিধার্থে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে চালু হয়েছে ছাদখোলা বাস। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবির) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাবেদ মাহমুদ বলেন, চুরি ছিনতাই ঠেকাতে সাদা পোশাকে আমাদের ঠিম সতর্ক অবস্থায় মাঠে থাকবে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় কোনোভাবে ব্যাঘাত ঘটবে না। কক্সবাজার রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানী জানান, রেল চলাচলের শুরু থেকে ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ট্যুরিস্ট পুলিশের সব ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পোশাকধারীদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আমাদের টিম পর্যটকদের কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে না হয়- সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে।