নির্বাচন ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করা না গেলে বিজয়ের সঠিক অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

একই সাথে দেশে এখনো পুর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে বিজয় দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সিটি করপোরেশন এবং জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন।

জাতীয় পার্টি ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান।

মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। কিছু দিন আগে সেখানের পশ্চিমবঙ্গে ভোট হয়েছে। বিজিবি ক্ষমতায়, সেখানে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের যে আস্থা সেই আস্থা তাতে তারা সুসংহত। সেখানে নির্বাচনের ১৭ দিন পরে ভোট গণনা হয়েছে। সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই মেনে নিয়েছে। ইনক্লুসিভ নির্বাচন, সকলে মিলে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে প্রেক্ষাপটা ভিন্ন। কেউ উপেক্ষিত, কেউ ভোট করছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। এ বিষয়গুলো আমাদের কন্ট্রাডেকটরি। নির্বাচন কমিশন তার পাওয়ার ইমপ্লিমেন্ট করতে পারছে না। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করার স্বার্থে অল নির্বাচনের সাথে রিলেটেড অল ডিপার্টমেন্ট নির্বাচন কমিশনের আওতায় থাকবে। তাহলে তাদের পক্ষে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব।’

জাপা কো-চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করা না গেলে বিজয়ের সঠিক অর্জন সম্ভব নয়। এখানে একটা ভঙ্গুর নির্বাচন কমিশন। তার ঢাল নাই, তলোয়ার নেই। তাদের করার কী আছে? যদি আমি লজিস্টিক সাপোর্ট আমার প্রশাসন, আমার ম্যাজিষ্ট্রেট, গোয়েন্দা সংস্থারা, ল অ্যান্ড ফোর্সেস অ্যাজেন্সি সকলে মিলে যদি আন্তরিকভাবে নির্বাচনটাকে অর্থবহ করা যায়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা সম্ভব ছিল। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রম রয়েই গেছে, আমরা গণতান্ত্রিক দেশ বলি, কিন্তু পুর্নাঙ্গ গণতান্ত্রিক চর্চা আমাদের দেশে নেই। এটা বাস্তব, স্বীকার করতেই হবে।’

মোস্তফা বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য এই যুদ্ধ। এই রক্তক্ষয়, এই ৩০ লাখ মানুষ শহীদ। এই দুই লাখ মানুষের সম্ভ্রব হানি। সবকিছু এই গণতন্ত্রের জন্য। জনগণ ক্ষমতার উৎস এটাকে ইমপ্লিমেন্ট করার জন্য, প্রতিপালন করার জন্যই আমাদের প্রচেষ্টা। এক্ষেত্রে একদিন আমরা ফিরে আসব, অবশ্যই বাংলাদেশটা একদিন গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এই আমার প্রত্যয়।’

এদিকে শনিবার সকালে রংপুর মহানগরীর বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুবর রহমান, ডিআইজি আব্দুল বাতেন, মহানগর পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, ডিসি মোবাশ্বের হাসান, এসপি ফেরদৌস আলী চৌধুরী, র‌্যাব-১৩ কমান্ডার আরাফাত রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তারা অর্জন এবং সুরভি উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্যেও শ্রদ্ধা জানান। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, ডিসপ্লেসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের দুটি পক্ষই শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃতি প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডায়াবেটিস সমিতি আয়োজন করে ফ্রি ডায়াবেটিস পরীক্ষা।