বিজয়ের উল্লাসে মেতেছে কক্সবাজার। অনেক দিন পর কক্সবাজারে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। দুই দিনের ছুটিতে পর্যটন শহর কক্সবাজারে পর্যটকরা মেতেছিল আনন্দ উচ্ছ্বাসে। গত শুক্রবার থেকে ভ্রমণ পিপাসুদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো কক্সবাজার। এ সময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে কক্সবাজারের দর্শনীয় স্পটগুলো। সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে আনন্দ কোলাহলে মত্ত সমুদ্রস্নানে মাতোয়ারা ছিলেন পর্যটকরা। বিজয় দিবসের পরে নির্বাচনকেন্দ্রিক চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে চিন্তিত ভ্রমণপিপাসুরা। তাই অনেকে আগেভাগেই ঘুরে যাচ্ছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে। গত দুই দিনে সকাল থেকেই সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে দলে দলে নামতে শুরু করে ভ্রমণপিপাসুরা। সাগরের ঢেউ দেখতে এবং সমুদ্রের বিশালতায় নোনা পানিতে নেমেই যেন তাদের সব প্রশান্তি। ইফতেখার উদ্দিন নামে এক পর্যটক জানান, অনেক দিনের ইচ্ছে, কক্সবাজার বেড়াতে আসব। অবশেষে ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসতে পেরেছি। এখানে সমুদ্রে নেমে অসাধারণ এক অনুভূতি, দীর্ঘ যাত্রা পথের সব ক্লান্তি ভুলে গেছি। খুব ভালো লাগছে। দিনাজপুর থেকে আসা সানজিদা ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্রের বিশালতা দেখে এখানে মনের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকা যায়।

ঢাকা থেকে আসা আরেক পর্যটক সাদিয়া আফরিন বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সাথে অন্য কোনো স্থানের তুলনাই হয় না। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চমৎকার। পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে সব পয়েন্টে। লাবণী, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে ঘুরে বেশ আনন্দ পাচ্ছি। পর্যটকেরা এবার ঘুরে বেড়িয়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ঘেঁষা উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকত এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কে। সীমান্তে বিজিবি চেকপোস্ট। গ্রামীণ পরিবেশে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গড়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কে বেড়াতে আসা নুরুল আবছার বলেন, কর্মস্থল চট্টগ্রামে। বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণে এসেছি সীমান্তের মৈত্রী সড়কে। এখানকার পরিবেশ যে কাউকে আকৃষ্ট করতে বাধ্য। বন্ধুদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করছি। এমন আনন্দ উত্তেজনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা মাথাতেই নেই। এবার ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের সমাগম হয়েছে। কক্সবাজার ও ইনানী সমুদ্র সৈকত ঘুরে এবার বন্ধুদের নিয়ে সীমান্তে মৈত্রী সড়কে ঘুরতে এসেছি। তার সাথে থাকা আরেক বন্ধু নুরুল আলম বলেন, কক্সবাজার এখন লোকে লোকারণ্য। সবাই বেশ মজা করছে, নোনা পানিতে গোসল করছে। তিনি বলেন, পর্যটকদের সমুদ্রস্নান নিরাপদ করতে তিনটি পয়েন্টে লাইফ গার্ড কর্মীরা সব সময় নিয়োজিত রয়েছে। এসব দেখে ভালো লাগছে। এরপর আমরা আরেকটু নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কে বেড়াতে এসেছি। কক্সবাজার জেলা পুলিশের সমন্বয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কক্সবাজার সসমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি পাথুরে গাঁথা উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি, পাটুয়ারটেক, মিনি বান্দরবান খ্যাত উখিয়া রেজু খালের পাশে গোয়ালিয়া, টেকনাফ, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কে এবার পর্যটকদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।