নাগরিকদের সেবার মধ্যে অন্যতম জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ। কিন্তু ছয় মাস ধরে এই সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বরগুনার বামনা উপজেলার সাধারণ নাগরিকরা। সার্ভার জটিলতার কারণে স্থানীয়রা এ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে সেবা প্রত্যাশীদের মাঝে।
জানা গেছে, এলাকার সাধারণ অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে সন্তানদের স্কুল-কলেজে ভর্তি করা নিয়ে সংশয়ে আছেন। এলাকার অনেকেই জমি রেজিষ্ট্রি, পাসপোর্ট, পারিবারিক পেনশনসহ বিভিন্ন কাজ করতে পারছেন না এই ভোগান্তির কারণে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন।
বামনা উপজেলার ৩ নং বামনা ইউনিয়নের আওতায় ১ নং ওয়ার্ডের আবুল কালাম বলেন, আমার মেয়ের জন্ম-সনদের জন্য দুই মাস ধরে ঘুরছি। সার্ভার সমস্যার কথা বলে বারবার আমাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। একই অভিযোগ করেন ডৌয়াতলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের পারুল বেগম, বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের কাজেম আলী। তাদের অনেকেই চার মাস ধরে জন্ম-নিবন্ধনের জন্য ধরনা দিচ্ছেন ইউপি দফতরের তথ্যসেবা কেন্দ্রে।
একই অবস্থা বিরাজ করছে বামনা উপজেলার অন্য ইউনিয়ন পরিষদেও। বামনা সদর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত ২০-৩০ জন সনদ নেয়ার অপেক্ষায় বসে আছেন। কাজল বেগম নামে তাদের একজন জানান, প্রায় দুই মাস আগে পরিবারের সদস্যদের জন্য জন্ম-নিবন্ধন নিতে আসি। একজনের সনদ পেয়েছি। বাকি দুই জনের সনদ পাওয়া যায়নি। কবে পাবো তা কিছুই জানানো হচ্ছে না। আপন নামের একজন বলেন, মাঠের কাজকাম ফেলে প্রতিদিন অন্তত একবার ইউনিয়ন পরিষদে এসে খোঁজ নিতে হচ্ছে জন্ম-সনদের জন্য।
ঘোপখালী গ্রামের দিনমজুর কালাম জানান, নাতি স্কুলে ভর্তি হবে। নাতির জন্ম সনদের জন্য দুই মাস ধরে ঘুরছি। একই ওয়ার্ডের পারভীন বলেন, পরিষদে মেয়ের জন্ম-নিবন্ধন করতে দিয়েছি। এখনো জন্ম নিবন্ধন পাচ্ছি না। কিভাবে নাতিকে স্কুলে ভর্তি করাব, সারাক্ষণ সেই চিন্তা করতে হচ্ছে।
এ তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা সোহাগ ও শহীদুল বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময় সার্ভারে ঢুকতে পারি না। কখনো চেয়ারম্যানের আইডিতে ঢুকতে পারলেও সচিবের আইডিতে ঢুকতে পারি না। পাঁচ-ছয় মাস ধরে এভাবেই চলছে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা সেবা প্রত্যাশীদের সাথে কথা কাটাকাটি যেন এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে রেজিস্ট্রার জেনারেল শূন্য থেকে এক বছরের শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদানের টার্গেট দেন দুই হাজার ২০১ জন। কিন্তু ৪২টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা থেকে সনদ দেয়া হয়েছে ৩৯০টি, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেয়া হয়েছে ৫৮০টি। তবে বেশি বয়সী নাগরিকের জন্ম-সনদ প্রদানের হিসাব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি।
বামনা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুজ্জামান সগির বলেন, উপজেলা মাসিক উন্নয়ন সভায় সার্ভার জটিলতা নিয়ে কথা হয়েছে। ইউএনও অফিস থেকে ঢাকায় চিঠি দেয়া হয়েছে। সমাধান হয়নি। বিষয়টি আমাদের হাতে না থাকলেও সাধারণ নাগরিকদের সেটি বুঝানো যাচ্ছে না। এ সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, সার্ভার সমস্যার কারণে সনদ দিতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে রাতে সার্ভার কিছুটা ফ্রি থাকে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের এ সময়ে সেবা দেয়া যায় কি না তা ভেবে দেখতে বলা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা সেবা প্রত্যাশীদের দুর্দশা লাঘবের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।