জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী হত্যা মামলার রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জামায়াত নেতা-কর্মীসহ ১২ জন বুধবার রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। আগের দিন মঙ্গলবার আদালতের বিচারক মো: মুহিদুজ্জামান ১১ জামায়াত নেতা-কর্মীসহ ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫২ জনকে খালাস প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাস করে কারাদণ্ডের আদেশও দেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা সকলেই অনুপস্থিত ছিলেন।
রায় ঘোষণার পরের দিন বুধবার দুপুরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত লালপুরের কদিমচিলান ইউনিয়নের কদিমচিলান গ্রামের জামায়াতকর্মী আবুল কালাম আজাদ প্রিন্স ও তার বাবা কদিমচিলান ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমির মিজানুর রহমান, নাটোর জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মহসিন আলম ও তার বাবা সাবেক মেম্বার এবং কদিমচিলান ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির মকলেছ সরদার, পুকুরপাড়া চিলান গ্রামের জামায়াতকর্মী আব্দুল করিম ও মতি সরদার, খলিলুর রহমান, স্কুলশিক্ষক আনিসুর রহমান, কদিমচিলান ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর রাজ্জাক, জামায়াতকর্মী জার্জিজ ও কালাম এবং চরমোনাই পীরের বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের কর্মী রানা আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালতের বিচারক মো: মুহিদুজ্জামান আত্মসমর্পণকারী সকলকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অপর দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপিকর্মী সানা পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা-কর্মীদের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম জানান, তার মক্কেলেরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই সকলে একদিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এখন এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর নাটোরের কদিমচিলানে বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী। ওই দিন এক সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই শাহিনুর রহমান লালপুর থানায় মামলা করলে দীর্ঘ ১০ বছর পর মঙ্গলবার বিচারক ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫২ জনকে খালাস প্রদান করেন।



