কক্সবাজারের পেকুয়া থানার উজানটিয়া ইউনিয়নের নুরীরপাড়ার কফিল উদ্দিনের সন্তান আরাফাত উদ্দিন গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার হন। সম্প্রতি তিনি জামিনে এসে স্থানীয় হুমায়ুন কবির নামের এক ব্যবসায়ীর নুরীর পাড়াস্থ মৎস্যঘের দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘেরের পানি ছেড়ে দিয়ে প্রশাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিদিন মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ত্রাসী আরাফাতের অত্যাচারে স্থানীয় ব্যবসায়ী, মৎস্যঘের ইজারাদার এবং এলাকাবাসী তটস্থ থাকে। কথায় কথায় লোকজনকে লোহার হাতল, রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। চাঁদা না দিলে উঠিয়ে নিয়ে নানা অত্যাচার করেন।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, উজানটিয়ার নুরীর পাড়ায় জলমহাল খালে তার মৎস্যঘের রয়েছে। গত এক বছর ধরে ওই ঘেরের ওপর নজর পড়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জলদস্যু আরাফাত উদ্দিন ও তার ভাই রিয়াদুল ইসলামের। তিনি বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আরাফাত তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কয়েক দফায় চাঁদা দাবি করেন। ঘেরের শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখান। অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল পেকুয়া থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করি। ওই মামলায় আরাফাত ২৭ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন। গত ৯ ডিসেম্বর সে জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। এলাকায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আমাকে খুঁজতে থাকে। আমার মৎস্যঘেরে কয়েকদফা হামলা চালায়। ১৩ ডিসেম্বর আমার মৎস্য প্রজেক্টে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে ঘেরের কর্মচারী আবুল কালাম, নুরুল আমিন ও মো: বাদশাকে ভয়ভীতি দেখায়।
মৎস্যঘেরের কর্মচারী আবুল কালাম, নুরুল আমিন ও মো: বাদশা বলেন, সন্ত্রাসী আরাফাত লোকজন আমাদের হুমায়ুন স্যারকে খুঁজতে থাকেন। ঘের চালু রাখতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমাদের ভয়ভীতি দেখান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিকৃত চাঁদা না দিলে বড় ধরনের অঘটন ঘটবে বলে হুমকি দেন। এর একদিন পর ১৪ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় পুনরায় আরাফাত ও তার ভাই রিয়াদুল ইসলাম, সন্ত্রাসী আকতারসহ ৭/৮জন মৎস্যপ্রজেক্টে এসে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘের থেকে বের করে দেন। পরে খামার ঘরে তালা লাগিয়ে দেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে আরাফাত উদ্দিন বলেন, উজানটিয়ার জলমহাল খালে মৎস্যঘেরের ইজারাদার হুমায়ুন কবির একার নয়। আমিও ছিলাম। কিন্তু তিনি আমার সাথে বেইমানি করেছেন। আমাকে মালিকানা থেকে বাদ দিয়ে আবার মিথ্যা মামলায় জেল খাটিয়েছেন।
পেকুয়া থানা সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর ১৬ ডিসেম্বর পেকুয়া থানায় একটি অভিযোগ দেন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। অভিযোগে চাঁদা দাবি, হুমকি ও জবরদখলের চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগটি তদন্ত করছেন পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক রাজেশ বড়–য়া। তিনি বলেন, মৎস্যঘেরের মালিকের লোকজনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাদি ও বিবাদি উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা রয়েছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, উজানটিয়ার একটি মৎস্যঘের দখল করে চাঁদা দাবির অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



