দেশের বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলায় এবার গোল আলুর আবাদ বেড়েছে। এখানে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ আর সেই মাঠজুড়ে শুধু আলুর ক্ষেত। কৃষকরা আলুর ক্ষেত পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলা জুড়ে এই কৃষি কর্মযজ্ঞে হাজার হাজার নারী পুরুষ আলু ক্ষেতে দাড়া করার (চারার গোড়ায় মাটি) কাজে ব্যস্ত।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর জমিতে ডাইমন্ড, কার্ডিনাল ও এস্টারিকম জাতের আলু চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, উপজেলার ধুলিয়ানী, চৌগাছা, নারায়ণপুর, হাকিমপুর, পাতিবিলা, জগদিশপুর, ফুলসারা স্বরূপদাহ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সাধারণত আলুর আবাদ বেশি হয়ে থাকে।
গত মৌসুমে আলুর ভালো ফলন ও বাজারমূল্যে লাভবান হওয়ায় এ অঞ্চলের আলুচাষিরা এবারো বেশ উৎসাহ উদ্দীপনায় আলুর আবাদ করেছেন। তবে কিছুদিন আগের অসময়ে হঠাৎ বৃষ্টি চাষিদের কিছুটা বিড়ম্বনায় ফেলেছিল। গত মাসের ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কারণেও আলু চাষে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা আলু ক্ষেতে সেচ, সার, স্প্রে ও দাড়া করার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। বাজার ধরতে অনেকেই আগাম আলুর চাষ শুরু করেছেন। তবে আলু রোপণের সঠিক সময় ১ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। আলু উত্তোলন শুরু হবে আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে। আলু রোপণের পর তা পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে সময় লাগে তিন মাস। আলু আবাদে কৃষকদের সহায়তা করছেন বাড়ির নারীরাও।
বর্তমানে বাজারে আলুর দাম চড়া। এ কারণে অনেক কৃষক জমি থেকে অপরিপক্ক আলু তুলতে শুরু করেছেন। নতুন আলু বাজারে ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আলু ব্যবসায়ীরা কৃষকের ক্ষেতে গিয়েই নতুন আলু ৬০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন।

চাষিরা জানান, এ অঞ্চলে অনেক কৃষকের আর্থিক অনটনেও অপরিপক্ক আলু ক্ষেত থেকে তুলে বিক্রি করে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আগাম আলুর চাষ করলেও আরো বেশি দামের আশায় আলু ক্ষেত থেকে তুলছেন না। বর্তমানে এ উপজেলায় দুই-তিন হাজার শ্রমিক আলুর জমিতে নিয়োজিত রয়েছেন। এখানকার সচ্ছল কৃষকরা সপ্তাহ বা দিন চুক্তিতে শ্রমিকদের নিয়োগ করছেন। আলু চাষকে ঘিরে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পূঁজিও চলে যাচ্ছে মাটির নিচে অর্থাৎ আলুর জমিতে। মার্চ মাসে আলু উঠার পর কৃষকের আর্থিক অভাব ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব কিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠে।
উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের শাহাজাদপুর গ্রামের আলু চাষি মুজিবর রহমান বলেন, এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। মাঝে হঠাৎ বৃষ্টিতে আলু আবাদে কিছুটা ধীর হয়েছে। তবে আবহাওয়া বর্তমানে অনুকূলে আছে।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের পেটভরা গ্রামের আলুচাষি আব্দার রহমান বলেন, এবার তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। তিনি বেশির ভাগ জমিই লিজ নিয়ে চাষাবাদ করছেন। আলু চাষে এবারো লাভবান হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।