কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের কাওনা এলাকায় নরসুন্ধা নদের ওপর নির্মাণাধীন গার্ডার সেতুর কাজ ফেলে রেখে বারবার ঠিকাদার উধাও হওয়ার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে সেতু নির্মাণের নির্ধারিত চার মাসের কাজ চার বছরেও শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার ফলে ঢাকাসহ আন্তঃজেলায় চলাচলে হাজারো যাত্রীর চরম বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ৩৭৮০ মিটার চেইনেজে ৪০মিটার দৈর্ঘের পিসি গার্ডার ব্রিজের নির্মাণ কাজের জন্য ২০২১ সালের ১১ ফ্রেব্রয়ারিতে কুমিল্লার এইচ/এন-৪৬৪, পুনাম পেলস, এইচটিবিএল সার্চের (জেবেকা) সাথে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নরসুন্ধা নদের ওপর কাওনা ব্রিজ নির্মাণের চুক্তি হয়। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাব-কন্ট্রাক্ট হিসেবে তারা চুক্তিবদ্ধ হয় কিশোরগঞ্জ জেলার এস আলম গ্রুপের সাথে, যা সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে। কিন্তু সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে বারবার ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হওয়ায় তাদেরকে বারবার চিঠি দিয়েও সেতুর কাজ সমাপ্ত করাতে পারছেন না উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর।
সরেজমিন তথ্য সংগ্রহকালে স্থানীয় জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ বুলবুল আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই কাদা-মাটিতে গাড়ি পিছলে নদে পড়ে গিয়ে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত চন্দ্র শীল জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী কার্যাদেশের চুক্তির বর্ণনাসহ সতর্কমূলক সাইনবোর্ড না টানিয়েই দীর্ঘদিন ধরে কাজ ফেলে রাখায় জনমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত ঈদুল আজহার পর গার্ডারের কাজ শেষ হলেও এরপর থেকে সেখানে আর কোনো শ্রমিকের সন্ধান মিলেনি। এখনো দু’দিকের রেলিং ও সংযোগ সড়কের কাজ ফেলে রাখায় দু’পাশের অনেক রড চুরি হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে।
এ সময় উপজেলার কাওনা এলাকার আব্দুল কাদির, মো: মফিজ উদ্দিন, সুজন মিয়াসহ কমপক্ষে ২০ জনের সাথে কথা হলে সকলেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় সেতু নির্মাণ ইতোমধ্যে শেষ হলেও কাওনা সেতুর কাজ শেষ করতে এত সময় লাগছে তা তাদের বোধগম্য নয়।
আব্দুল কাদির মোল্লা বলেন, কাওনা ব্রিজ হলো এখন আমাদের গলার কাঁটা। ব্রিজের কাজ করার সময়ে দু’পাশে কোনো সতর্কমূলক সাইন বোর্ডেরও কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ইতোমধ্যে দুর্ঘটনায় এখানে দু’জন লোক মারা গেছে। এ ছাড়াও প্রতিদিন এখানে পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান পড়ে যায়। এ সময় অনেকেই আহত হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হয় তারাকান্দি বাজারের সবজিবাহী অটোরিকশার। প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে নদে পড়ে যায়। ডাইভারশনে ভাঙা ও ঢালু না থাকায় অনেক গাড়ির বাম্পার ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান চালকরা।
হোসেনপুর এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হক জানান, গত দেড় মাস ধরে কন্ট্রাক্টরের নাম্বারে ফোন দিচ্ছি, কিন্তু ফোনও ধরছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী গালীব মুরশীদ জানান, মূলত এ রকম সেতু করতে দেড় মাস সময়ের প্রয়োজন হলেও কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে এখনো কাজ শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম জানান, ওই ঠিকাদারকে দ্রুত সময়ে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সড়কের কাজ শেষ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও রয়েছে। পরে আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নরসুন্ধা নদের ওপর সেতুর দু’দিকের দু’টি গার্ডার নির্মাণ করার পর কাজ অসমাপ্ত রেখে উধাও হয়। তবে এ বিষয়ে সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের মালিক মো: শফিকুল আলম জানান, কোটি টাকার ওপরে বিল আটকা রয়েছে যার জন্য ফান্ডের অভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে এক কোটি ১০ লাখ টাকার একটি বিল পেয়েছি শিগগিরই কাজ শুরু করব ইনশা আল্লাহ।