যশোরের চৌগাছা উপজেলার ঘরে ঘরে চলছে কুমড়ো বড়ি তৈরির মহোৎসব। শীতকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামের ঘরে ঘরে চলছে কলাই আর চালকুমড়া দিয়ে বড়ি বানানোর উৎসব। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হয় তাদের বড়ি তৈরির রাঙা উৎসব। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত হাড় কাঁপানো শীত পড়ছে। তবুও তা উপেক্ষা করে গ্রাম অঞ্চলের ঘরে ঘরে এখন চলছে শীত মৌসুমের ঐতিহ্যবাহী অন্যতম মজাদার গ্রামীণ খাবার কুমড়ো বড়ি তৈরি।
শনিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি গ্রামে গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরির যেন মহোৎসব চলছে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে মাচা করে সেখানে শুকানো হচ্ছে শীতের জনপ্রিয় খাবার বড়ি। স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে বড়ির চাহিদা। বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হওয়ায় অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বড়ি তৈরি করছেন নারীরা। অনেক পরিবার বড়ি তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। মাষকলাই ভিজিয়ে সেই ডালের সাথে পাকা চালকুমড়ো কুরিয়ে (গ্রেট) মিশিয়ে তৈরি করা হয় এ সুস্বাদু বড়ি। শীতের মৌসুমে গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ মহিলা পালা করে বড়ি তৈরি করার কাজটি করে থাকেন। কুমড়ো বড়ি একটি মুখরোচক খাদ্য। এতে তরকারির স্বাদে যোগ হয় নতুন মাত্রা।
চৌগাছা পৌর শহরের বাঁকপাড়া গ্রামের আকলিমা বেগম বলেন, উপজেলার নারীরা এ বড়ি তৈরি করার জন্য বেশ কয়েক মাস আগে থেকে চাহিদা মতো পাকা চালকুমড়োর ব্যবস্থা করেন। বড়ি তৈরিতে মূলত চালকুমড়া এবং মাষকলাইয়ের ডাল প্রয়োজন হয়। মাষকলাইয়ের ডাল ছাড়া অন্য ডালেও তৈরি করা যায় এ বড়ি।
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, শীত মৌসুমে গ্রামের নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয় করছে। গ্রামীণ নারীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করি।
চৌগাছায় ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে কুমড়ো বড়ি
যশোরের চৌগাছা উপজেলার ঘরে ঘরে চলছে কুমড়ো বড়ি তৈরির মহোৎসব। শীতকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামের ঘরে ঘরে চলছে কলাই আর চালকুমড়া দিয়ে বড়ি বানানোর...



