বকেয়া বেতনের দাবিতে কুমিল্লার চান্দিনায় ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিকরা। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের টানা ৩ ঘণ্টা অবরোধে তীব্র দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকাল অনুমানিক ১০টা থেকে মহাসড়কের চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় অবরোধ করে তারা।
দুপুর ১টায় জেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মালিক পক্ষ ঘটনাস্থলে এসে একদিনের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন ভাতা প্রদানের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
ডেনিম প্রসেসিং প্লান্টের শ্রমিকরা জানায়, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতনসহ ওভারটাইমের টাকা না দেয়ায় বাধ্য হয়ে অবরোধে আসছে তারা। মালিকপক্ষ বছরে কয়েকবার শ্রমিকদের বেতন আটকে দেয়।
শ্রমিক হালিমা আক্তার ও নিলুফা আক্তার জানায়, আমরা পেটের দায়ে গার্মেন্টসে কাজ করি। মাস শেষে যদি বেতন না পাই সংসার চালাব কি দিয়ে, খাব কি? যতবার আমাদের বেতন বকেয়া পড়েছিল ততবার আমরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বেতন আদায় করতে হয়েছে। এভাবে আর কতদিন আমরা চলব?
এদিকে, প্রায় তিন ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কের কুমিল্লার কালাকচুয়া থেকে কুটুম্বপুর পর্যন্ত উভয় পাশে অন্তত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও বিদেশগামী যাত্রীসহ হাজার হাজার যাত্রীরা।
চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বাসচালক ইমাম হোসেন জানান, আমি সকাল সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম থেকে রওয়ানা হয়েছি। আমরা চান্দিনার কাঠেরপুল এলাকায় এসে যানজটে আটকা পড়ি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতোদিন বিএনপির হরতাল অবরোধের জন্য গাড়ি চালাতে না পারায় সংসার চালানো নিয়ে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। এখন আবার অবরোধ করছে তারা কারা? গার্মেন্টসের বেতন না দিলে তারা মহাসড়ক অবরোধ করবে কেন?
ডেনিম প্রসেসিং প্লান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যেই শ্রমিকদের বেতন দিয়ে দেই। প্রতি ডিসেম্বর এলেই আমাদের সাময়িক কিছু ঝামেলা হয় কিন্তু একটি কুচক্রি মহলের ইন্দনে অবরোধে নামে শ্রমিকরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: মোশারেফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার আশফাকুজ্জামান, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাবের মো: সোয়াইব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা মজুমদার, সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) এনায়েত কবির শোয়েব, চান্দিনা থানা, দেবীদ্বার থানা ও হাইওয়ে পুলিশ।
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাবের মো: সোয়াইব জানান, জেলা প্রশাসক স্যারের হস্তক্ষেপে জেলা পুলিশের সহযোগীতায় আমরা মালিক পক্ষকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে তাদের দাবি মিটিয়ে দিতে পেরেছি। যেহেতু হাজার হাজার শ্রমিক একই সাথে মহাসড়ক অবরোধ করেছে সেহেতু কিছুটা সময় লেগেছে।



