কুমিল্লার চান্দিনায় প্রচারণাকালে নৌকা সমর্থকদের পৃথক হামলায় নয়াদিগন্তের প্রতিনিধিসহ তিনজন সাংবাদিক এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ (ঈগল) অন্তত সাত-আটজন কর্মী আহত হয়েছে। এ সময় একজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ও আইডি কার্ড নৌকার সমর্থকরা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে চান্দিনার গল্লাই ইউনিয়নের হোসেনপুর ও কালিয়াচর এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিকরা হলেন নয়াদিগন্ত প্রতিনিধি মো: জাকির হোসেন, দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি মো: আব্দুল বাতেন ও দৈনিক মুক্ত খবর প্রতিনিধি মো: সোহেল রানা।

আর অন্য আহতরা হলেন চান্দিনার গল্লাই ইউনিয়নের কালিয়ারচর এলাকায় ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটুর চার সমর্থক।

আহতরা বলেন, দুপুরের দিকে বেধরক মারধর করে আহত করে নৌকার সমর্থকরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। হামলাকারীরা সাংবাদিক সোহেল রানার একটি মোবাইল ও আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়।

আহত সাংবাদিক আবদুল বাতেন বলেন, সকালে চান্দিনা উপজেলা সদরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ থেকে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদর ঘুরে মাধাইয়াসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে গল্লাই ইউনিয়নের হোসেনপুরে যাওয়ার পর লিফলেট বিতরণের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটুর সমর্থকদের মারধর করে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী টিটুর চার-পাঁচজন কর্মী আহত হয়।

অপর দিকে উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের কালিয়ারচর এলাকায় ঈগল প্রতীকের প্রচারণার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটুর সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে চার কর্মীকে আহত করে নৌকা সমর্থকরা। হামলায় আহতরা হচ্ছেন, তাঁতী লীগ নেতা মো: ফারুক, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম।

যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নৌকার সমর্থক ও কেরনখাল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুমন সরকারের নেতৃত্বে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাম্মদ সনজুর মোর্শেদ বলেন, ‘প্রচারণাকালে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মুখোমুখি হয়ে পড়েছিল। বড় ধরনের কিছু ঘটেনি। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।