পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত জাহাঙ্গীর পঞ্চায়েত (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের নাগ্রাভাংগা গ্রামের তোতাম্বর পঞ্চায়েতের ছেলে।
এ দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম শাহনেওয়াজের (কলার ছড়ি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এমাদুল হক খান দাবি করে জানান, জাহাঙ্গীর তাদের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা: রুস্তুম আলী ফরাজির (ঈগল) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর বলেন, ঘটনাটি একান্ত পারিবারিক জমি সংক্রান্ত। তারা নির্বাচনী লড়াইয়ে হেরে যাবার ভয়ে এটাকে নির্বাচনী ইস্যু করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
জানা যায়, গত বুধবার সকালে বশির ফরাজি, তার ভাই ও তার ছেলেদের সাথে জাহাঙ্গীর পঞ্চায়েত ও তার দলবলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। বিকেলে বশির ফরাজির বাড়ির সামনে তার ছেলে সিরাজুলের সাথে সকালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির এক পর্যায় জাহাঙ্গীর পঞ্চায়েত মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানের চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় তার মৃত্যু হয়।
পিরোজপুর পুলিশ সুপার শরীফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, এটা নির্বাচনী কোনো ঘটনা নয়। ঘটনাটি একান্ত পারিবারিক জমি সংক্রান্ত। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বুলু বেগম বুধবার রাতে মঠবাড়িয়া থানায় সাতজন নামীয় ও অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলাটি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। আসামি গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।