বিএনপির ডাকা ৪৮ ঘণ্টা হরতাল পালনের সমর্থনে কক্সবাজারের পেকুয়ায় ৩০টি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠেছে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে বিএনপির চারজন।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) সকালে সড়কে পিকেটিং করে একটি সিএনজিচালিত (অটোরিকশা), ২০টি ইজিবাইক (টমটম) ও দুইটি ট্রাক গাড়িসহ অন্তত ৩০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

গুলিবিদ্ধরা হলেন পেকুয়া উপজেলা যুবদল সভাপতি কামরান জাদীদ মুকুট (৩৫), যুবদল কর্মী জয়নাল (৩২), ছাত্রদল কর্মী সাকি (১৮) ও রিফাত (১৭)। আহতদের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

চকরিয়া-পেকুয়া আঞ্চলিক সড়কে পিলার ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করার চেষ্টা করেন। বিকেল চারটার দিকে সিকদারপাড়া এলাকায় এবিসি সড়কে পিকেটিং করার সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পেকুয়া চৌমুহনী, আনোয়ারা-বাঁশখালী সড়কের মডেল কেজি স্কুলের সামনে, পেকুয়া বাজার, বানৌজা শেখ হাসিনা সড়কের সাবেক গুলদি, রাবারড্রাম-সংলগ্ন এলাকা, চড়াপাড়া ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের বাড়ির সামনের সড়কে মিছিল সহকারে পিকেটিং করেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সড়কে কিছুদূর পরপর গাছ, পিলার, টায়ার জ্বালিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। পথচারীরা হেঁটে যাচ্ছে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। পেকুয়া সিকদার পাড়া এলাকায় হরতালের সমর্থনে সড়কে জড়ো হয়েছে নারীরাও।

তারা বলছে, পনের বছর ছেড়ে দিয়েছি আর ছেড়ে দিব না। পেকুয়া সালাহউদ্দিনের ঘাঁটি এখানে আমরা তার নির্দেশনায় হরতাল পালন করছি এবং চলমান থাকবে।

বদরখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী প্রবাসী আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রায় চার বছর প্রবাস থেকে দেশে আসছি। ভয়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যাচ্ছি এবং হরতাল পালনকারীদের বুঝাতে চেষ্টা করেছি যে আমি প্রবাস থেকে আসছি। তিনি আরো বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহীনি মোতায়েন করা হয়েছে তার পরও এখানে সড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং চলাচল বন্ধ করা দেয়া হয়েছে। আমার সামনে একটি সিমেন্টভর্তি একটি ট্রাক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে নিজেকে অনিরাপদ মনে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কাল নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে না।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইলিয়াছ বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় হরতাল সমর্থনকারীরা যানবাহনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এছাড়া কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মাঠে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।