ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরাজীর্ণ পিয়াজপুকুর ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি ৩২ বছর পর পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়ে ভবনটির সংস্কার কাজ শুরু করেছে। সংস্কার কাজ শেষ হলে দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ করে অনেক বেকার নারীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হবে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ করে দুওসুও ইউনিয়নের এই কুটির শিল্প কেন্দ্রটি সংস্কার করা হচ্ছে। এতে দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ করে উপজেলার অদক্ষ বেকার নারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
এই কেন্দ্রে ৯টি ধাপে (ট্রেডে) প্রশিক্ষণ চালু থাকবে। প্রতি ধাপের মেয়াদ হবে দুই থেকে তিন মাস মেয়াদি। প্রতি ধাপে প্রায় ৪০ জন নারী থাকবেন। মোট ৩৬০ জনের কমবেশি অদক্ষ নারী দক্ষ জনশক্তি হয়ে বের হবে। ধাপগুলোর মধ্যে থাকবে পাটজাত শিল্প, বাঁশ ও বেত, মৃতশিল্প, তাঁত ও বস্ত্র, খাদ্য ও সহায়ক, হস্ত, ঝিনুক, ক্ষুদ্র ইস্পাত ও প্রকৌশল এবং কেমিক্যাল ও ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প।
জানা গেছে, ১৯৮০ সালে ১৫৩ শতক জমির ওপর নির্মিত হয় পিয়াজপুকুর ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি। তখন এর নাম ছিল ‘মহিলা উন্নয়ন কেন্দ্র’। স্থানীয় নারীদের তাঁত প্রশিক্ষণ, সঞ্চয়করণ, অধিকার রক্ষায় সচেতনতা, শাক-সবজি চাষের প্রশিক্ষণ, বাঁশ-বেত, পাট দিয়ে বানানো জিনিস যেমন- চট, বস্তা, ব্যাগ, শিকা, মোথার পাটি ও শেলাই প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ শেখানো হতো দুওসুও ইউনিয়নের পিয়াজপুকুর ক্ষুদ্র কুটির শিল্পে।
এই প্রতিষ্ঠানের জন্য এলাকাটি পিয়াজ-পুকুর কুটির শিল্প নামে পরিচিত ছিল। এটিই ছিল ওই সময় গ্রামের নারীদের প্রশিক্ষিত করার একমাত্র কারখানা। সে সময় অনেক নারী শেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রামে দর্জির কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন। আশির দশকে এটির জমজমাট অবস্থা ছিল। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আট ইউনিয়নের মধ্যে এটি ছিল প্রশিক্ষণের অন্যতম ভরসা।
নরওয়ে সরকারের ফান্ডে এই প্রকল্পটি চালু হয়। বাংলাদেশে নরওয়ে সরকারের ফান্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটি ১৯৯০ সালের ৩০ জুন চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধের সময় চেয়ার-টেবিল, প্রশিক্ষণের যন্ত্রপাতিসহ সব অস্থাবর সম্পত্তি মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা করা হয় বলে জানান কেন্দ্রটির সাবেক পরিচালক মর্জিনা বেগম। তখন থেকেই এটি পরিত্যক্ত।
কেন্দ্রটির সাবেক হিসাবরক্ষক শামসুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সমাজের দুষ্কৃতকারীদের গোপন আস্তানায় পরিণত হয় এটি। দুষ্কৃতকারীরা রাতের আধারে কুটির শিল্প ঘরের দরজা- জানালা ও প্রাচীরের ইট খুলে চুরি করে নিয়ে যায় এবং মাঠে রোপণকৃত বেশ কিছু গাছ চুরি করে কেটে নিয়ে যায়। জড়াজীর্ণ পরিত্যক্ত পিয়াজপুকুর ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি ৩২ বছর পর পুনরায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
সরলিয়া পিয়াজপুকুর গ্রামের মোমিনা বেগম বলেন, ‘আমার শ্বশুর এই প্রতিষ্ঠানে জমি দান করেছেন। এটি যখন চালু হয়, তখন আমিসহ ৪০ জন এক সাথে পাটি বানাতাম। এখান থেকেই আমরা নারীদের অধিকারের কথা শিখেছি।
বালিয়াডাঙ্গী মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, দুষ্কৃতকারীরা এটির দরজা, জানালাসহ চালার টিন, সীমানা প্রাচীরের ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে।
কুটির শিল্পের (মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের) পরিচালক মর্জিনা বেগম বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার অবহেলিত নারীরা হাতের কাজ শিখে অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছে। এটি এত দিন চালু থাকলে নারীদের অনেক উন্নয়ন হতো। এটি চালুর উদ্যোগকে এলাকার মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। দুওসুও ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা বলেন, এটি চালু হলে এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।
সাবেক বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল কুমার বলেন, এক সময় এই কুটির শিল্প কেন্দ্র এলাকার অনেক মানুষের উপকারে এসেছিল। ২০ থেকে ৩০ বছর আগে অনেক প্রাণবন্ত ছিল এটি। এলাকার অনেক মানুষের ভালোবাসা আর আবেগের জায়গা এই কুটির শিল্প। প্রায় ছয় মাস আগে কিছু ব্যক্তি এই কুটির শিল্প আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে জায়গাটি আত্মসাৎ করতে চেয়েছিল। এরই কারণে এটি আমার নজরে আসে।
নবাগত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা কাউসার বলেন, আগের ইউএনওর অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে পিয়াজপুকুর ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি পুনরায় চালু করা হবে।
বালিয়াডাঙ্গীর পিয়াজপুকুর ক্ষুদ্র কুটির শিল্প আবার চালু হচ্ছে
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরাজীর্ণ পিয়াজপুকুর ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি ৩২ বছর পর পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়ে ভবনটির সংস্কার কাজ শুরু করেছে। সংস্কার কাজ...



