রংপুরের ছয়টি আসনের তিনটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া দুই আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র এবং এক আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
রোববার (৭ জানুয়ারি) রাতে রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান
এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
রংপুর-১ (গংগাচড়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী কেটলি প্রতীকের আসাদুজ্জামান বাবলু। তিনি পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৯২৭ ভোট। এখানে ট্রাক প্রতীক নিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় পার্টি থেকে অব্যাহতি পাওয়া সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা ২৪ হাজার ৩৩২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। এখানে তৃতীয় হয়েছেন লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার। তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৯২ ভোট।
রংপুর ২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক। তিনি পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৩৩৭ ভোট। এ নিয়ে টানা তিনবার এমপি হলেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু। তিনি পেয়েছেন ৩৯ হাজার ১৪৩ ভোট। এখানে তৃতীয় অবস্থানে আছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আনিছুল ইসলাম মণ্ডল। তিনি পেয়েছেন ১৫ হাজার ৬২৩ ভোট।
রংপুর-৩ (সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান লাঙ্গল প্রতিকের গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। তিনি পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৬১ ভোট। এখানে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারুল ইসলাম রানী। তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৩২৬ ভোট। এখানে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আব্দুর রহমান রেজু ৫৫৭, বাংলাদেশ কংগ্রেসের একরামুল হক ২০৩, জাসদের সহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৮ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শফিউল আলম ২৬৭ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৬৬ ভোট পেয়ে। এখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭১ ভোট। এখানে বাংলাদেশ কংগ্রেসের সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১৯৫ ভোট।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য জাকির হোসেন সরকার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৭০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এই আসনের বর্তমান এমপি আশিকুর রহমানের ছেলে রাশেক রহমান ৭৪ হাজার ৫৯০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। এখানে জাতীয় পার্টিও লাঙ্গল প্রতীকের আনিছুর রহমান পেয়েছেন ১০ হাজার ৩৩৪ ভোট। এখানে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আবদুল ওয়াদুদ ১১৫, বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট আব্দুল বাতেন ১ হাজার ৩১৬, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আব্দুল হালিম মন্ডল ১০৭, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের এনামুল হক ২৬৫ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে আবারো এমপি নির্বাচিত হলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজি জামাই জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সিরাজুল ইসলাম। ট্রাক প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৩৬ হজার ৮৩২ ভোট। এখানে তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ৯ হাজার ১৬ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকিয়া জাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৪৭৯ ভোট। এছাড়া বাংলাদেশ কল্যান পার্টির হাতঘরি প্রতীকের জাকারিয়া হোসেন ১৮৪ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকের মাহবুব আলম পেয়েছেন ১৬৯ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আরো জানান, এবার রংপুরের ছয়টি আসনে গড়ে ভোট পড়েছে ৩৪ দশমিক পাঁচ ভাগ।



