কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বহুল বিতর্কিত সংসদ সদস্য জাফর আলমকে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম। বেসরকারি ঘোষণা মতে তার প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয় ৮১ হাজার ৯৫৫, পরাজিত জাফর আলম এমপির প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয় ৫২ হাজার ৯৮৬ ভোট। তবে কথিত হয়েছে এই আসনের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনও হয়েছে ২০১৮ সালের আমলে। জাফর আলম যেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন একই কায়দায় সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিমও নির্বাচিত হয়েছেন।

এ দিকে, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে জাফর আলম ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন, তার ছেলে তানভীর ছিদ্দিকী তুহিন ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। জাফর আলম ৫২ হাজার ৯৮৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হলেও তার ছেলে তানভীর ছিদ্দকী তুহিন পেয়েছেন মাত্র ২৪৪ ভোট।
ফলে তুহিনসহ ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

জানা গেছে, নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা ছিল সাতজন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছিলেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম ও জাফর আলম এমপি। সৈয়দ মুহাম্মদ বিজয় হন, পরাজিত হন ৬ জন প্রার্থী। তবে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের এক অংশ ভোট না পাওয়ায় ৫ জন প্রার্থী জামানত হারাবেন।

জামানত হারানো অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির হোসনে আরা (লাঙ্গল), তার প্রাপ্ত ভোট ৭৭৩। বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির হাজী বশিরুল আলম (হাতুড়ি), তার প্রাপ্ত ভোট ৫৩৭। ইসলামী ফ্রন্টের বেলালউদ্দিন (মোমবাতি), তার প্রাপ্ত ভোট ৬৯১। স্বতন্ত্র প্রার্থী কমরুদ্দিন আরমান (কলারছড়া), তার প্রাপ্ত ভোট ১৮০। চকরিয়া-পেকুয়ায় ২৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় চার লাখ ৮৬ হাজার। কেন্দ্র সংখ্যা ১৫৮টি। দু’উপজেলায় মোট ভোট পড়ে এক লাখ ৪০ হাজার ৬১৮। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৩৩১২।

নানা অনিয়মের অভিযোগে তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করে দেয়া হয়।

স্থগিত কেন্দ্র তিনটি হলো চরন্দ্বীপ ভূমিহীন সমবায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র নম্বর ২৫), দক্ষিণ ফুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র নম্বর ৭৪), মরনঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র নম্বর ৮০)।