বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের চারটিতে নৌকা, একটিতে লাঙ্গল এবং অপর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে মোট ১২৯ টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এক লাখ ৭৬ হাজার ৭৭৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের সেকেন্দার আলী পেয়েছেন চার হাজার ১২২ ভোট।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে মোট ১৩৬টি কেন্দ্রে এক লাখ ২১ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে মহাজোট মনোনীত ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৬২ ভোট।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়া হয়নি। আসনটি শরিকদল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেন ক্ষমতাশীনরা। এই আসনের মোট ১২৪টি কেন্দ্রে ৫১ হাজার ৮১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম কিবরিয়া টিপু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আতিকুর রহমান পেয়েছেন ২৪ হাজার ১২৩ ভোট।
বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ড. শাম্মী আহম্মেদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়ায় নৌকার কোনো প্রার্থী ছিল না। তবে আওয়ামী লীগ নেতা পঙ্কজ নাথ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৪৯টি আসনে এক লাখ ৬১ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের মিজানুর রহমান পেয়েছেন সাত হাজার ৬৭৫ ভোট।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম মোট ১৭৬টি কেন্দ্রে ৯৭ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বর্তমানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপন পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৭০ ভোট।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাফিজ মল্লিক ১১৩টি কেন্দ্রে ৬০ হাজার ১০৯টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৩৭৪ ভোট।
ভোটের হার ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বরিশাল জেলায় বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ছয়টি আসনে ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ৬০ দশমিক ৫০ শতাংশ, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ৪০ দশমিক ০৮, বরিশাল-৩ ( বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ৩৪ দশমিক ৩৬, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ৪৩ দশমিক ৯৮, বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ২৯ দশমিক ৮৮ এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ৩৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।
বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ৩৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে টিকে ছিলেন। তবে বরিশাল-২ আসনে মনিরুল ইসলাম নৌকাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান। বরিশাল-২ ও ৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপসও প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। জেলায় মোট ভোটার ছিল ২১ লাখ ৩২ হাজার ৭৪ জন।কেন্দ্র ছিল ৮২৭টি। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। কিছু কিছু কেন্দ্রে নানা অনিয়ম এবং অভিযোগ প্রত্যক্ষ করেছেন সাংবাদিকরা।



