তীরে ভিড়তে নিজের সাইকেলের বদলে বেছে নিয়েছিলেন নৌকা। কিন্তু রক্ষা হয়নি জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর। পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-স্বরূপকাঠী) আসনে নির্বাচন করে হারলেন। তা-ও সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীর কাছে।

এই আসনে ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন মহারাজ বেসরকারিভাবে জয়ী হন। তিনি ৯৯ হাজার ৭২৪ ভোট পান।

বিপরীতে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৩৩ ভোট। ১৪ দলীয় শরিক হিসেবে আওয়ামী লীগের নৌকা নিয়ে ভোট করেন জেপি চেয়ারম্যান। এই জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি এর আগে ভোট করলেও নৌকায় উঠেছিলেন এবার। আগে নিজ দলের প্রতীক সাইকেলে চেপে নির্বাচনী বৈতরণী পার করেছেন।

এই হারের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পরাজয়ের মুখ দেখলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। দ্বাদশ ভোটের আগে আরো ছয়বার সংসদ নির্বাচন করে প্রতিবারই বিজয়ী হন তিনি। ২০১৬ সালের জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনেও মহিউদ্দিন মহারাজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। ওই সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের সমর্থিত পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: শাহ আলম। ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসকও। মহিউদ্দিন মহারাজের বাবা সাবেক শাহাদাৎ হোসেন ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলীখালী ইউনিয়নের একাধিকবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তার মেঝ ভাই মিরাজুল ইসলাম ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান। আরেক ভাই শামছুদ্দীন তেলীখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আরেক ভাই সালাউদ্দিন ব্যবসায়ী।