ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পলিথিনে ঢাকা বীজতলা। উত্তরের হিমালয়ের পাদদেশের ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেশির ভাগ ইরি-বোরোর বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি বছর ঘন কুয়াশায় ইরি-বোরো ধানের বীজতলা বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বালিয়াডাঙ্গীর কৃষকেরা এখন পলিথিন ঢাকা দিয়ে বীজতলা তৈরি করছেন। কম সময়ে স্বাস্থ্যবান ও ভালো বীজ পাওয়ায় ইতোমধ্যে এ পদ্ধতিটি চাষীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেরা কৃষি সম্প্রাসারণ অফিসের কর্মকর্তা মো: সাজ্জাদ হোসেন সোহেল জানান, ‘চলতি মৌসুমে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩২০ মেট্রিক টন। বোরো আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করতে এ উপজেলায় সরকারিভাবে বিনামূল্যে বেশ কিছু কৃষককে উফশি জাতের ৫ কেজি করে ধানের বীজ ও ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কৃষককে ২ কেজি করে উন্নত জাতের হাইব্রিকেট ধানের বীজ দেয়া হয়েছে। গত মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে।

তিনি আরো বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসের প্রথম থেকে কৃষকেরা বাড়ির পাশে খাল বিল ডোবা ও নদীর ধারে বীজতলা তৈরি করে থাকেন। কিন্তু প্রতি বছর ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষকরা পড়েন বিপদে। তখন বাইরে থেকে বীজতলা সংগ্রহ করতে হয়। এ অবস্থায় পলিথিন ঢাকা দিয়ে উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরির পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় যেসব বীজতলা তৈরি করা হয়েছে তার অর্ধেকই পলিথিন দিয়ে ঢাকা। বীজ গজানোর পর রোদ্রজ্জ্বল দিনে পলিথিনের ঢাকা তুলে ফেলতে হয়। মাঝে মধ্যে পানি সেচ দিতে হয়। পলিথিন ঢাকা দিয়ে তৈরি বীজতলা শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশায় নষ্ট হয় না এবং সময়মতো খেতে লাগানো যায়। এ বীজ থেকে ধানের উৎপাদনও তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই এ পদ্ধতি কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

উপজেলা বড়বাড়ী গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, ‘গত বছর ধরে আমরা পলিথিন দিয়ে বীজতলা তৈরি করছি। কারণ শীতে বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। তাই বীজ তলা রক্ষার জন্য পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে।’

একই গ্রামের কৃষক মোজাম্মল হক বলেন, ‘শীতের আবহাওয়া বীজ তলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তাই পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিলে ভালো হয়।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, ‘তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। তাই আমাদের এ এলাকার কৃষকদের পলিথিনের ঢাকা দিয়ে বীজতলা তৈরি করার জন্য আমরা পরামর্শ দিয়ে আসছি। আর তারা এভাবে বীজতলা তৈরি করে লাভবান হচ্ছে।’