সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশায় ঘর থেকে বের হওয়াই যেন দায়। বৃহস্পতিবার ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল বেলা ২টায়। তখনো সূর্যের দেখা মিলেনি। সকালের এ শীতে ঘন কুয়াশার মধ্যে কৃষকরা বের হয়েছেন জমিতে বোরো ধান রোপণের জন্য। তীব্র শীত উপেক্ষা করে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। জমিতে পানি সেচ দিয়ে হাল চাষ করছেন কেউ। কেউ মই কেউ বা কোদাল দিয়ে জমির উঁচু-নিচু সমান করে চারা রোপণ করছেন। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে শাকসবজি ও সরিষা চাষ হলেও অর্থকরী প্রধান ফসল হিসেবে বোরো ধানই একমাত্র ভরসা।
সরেজমিন জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পাখিটিকি হাওর, ডেঙ্গাই হাওর, পুটির বুক, বুঝির হাওর, খাগড়া হাওর প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড, হরুফাতা হাওর, মরা খান্দি হাওর ঘুরে কৃষকদের এ ব্যস্ততার চিত্র দেখা যায়। কর্মব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকরা মাঠেই খাচ্ছেন দুপরের খাবার। এ দিকে আগের বছরে বোরো ও আমন ধানের বাম্পার ফলন পাওয়ায় বেশ ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে বোরো আবাদে করছেন কৃষকরা। তবে বেশ কয়েকটি হাওরে সেচ ও পানি সঙ্কটে বোরো আবাদ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কৃষক। অন্য দিকে ফলন ভালো পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তেমন সহযোগিতা ও পরামর্শ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করছেন কোনো কোনো কৃষক।
জানা গেছে, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূল ও বীজতলায় রোগবালাই না থাকায় চাষিরা বোরো আবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা ৩০ থেকে ৪০ দিন বয়সী চারা জমিতে রোপণ করছেন। কয়েক বছরের টানা বন্যায় এ অঞ্চলের মানুষের আনেক ক্ষতি হয়েছে, তাই চলতি বছরের পৌষ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পুরোদমে বোরো রোপণ শুরু করেছেন বলে কৃষকরা জানান।
জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দেয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে পাঁচ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাষকৃত জমিতে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন চাল। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৩০ ভাগ জমিতে রোপণ করা হয়েছে বোরো ধান।
উপজেলার হেমু হাউদপাড়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে বোরো রোপণের জন্য দুই একর জমি তৈরি করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এক একর জমিতে বোরো রোপণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার ভালো ফলন হবে বলেও আশা করছেন তিনি।
বাগেরখার গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, তিনি এ বছর তিন একর জমিতে বোরো রোপণ করবেন। এ সপ্তাহে চারা রোপণ সম্পন্ন হবে। তিনি আরো বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে এখনো আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হয়নি।
মাঝপাড়া গ্রামের আবুল কালাম ও জয়নাল আবেদীন বলেন, এ বছর ১০ একর জমিতে বোরো রোপণ করেছি। তবে তেল, সার ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর তাদের খরচটা গতবারের চেয়ে বেশি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, কয়েক বছর থেকে বন্যায় এ অঞ্চলের কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়েছে, তাই তারা এবার আগাম বোরো চাষে নেমেছেন। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে পাঁচ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার জমি বৃদ্ধি পেয়েছে। চাষকৃত জমিতে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন চাল। আমরা কৃষকদের জমি চাষের সঠিক ব্যবহারসহ নানান পরামর্শ প্রদান করছি। কৃষকের মাঝে সার, বীজ দেয়া হয়েছে। আশা করি গত বছরের তুলনায় এ বছর আমরা ভালো ফলন পাবো।
জৈন্তাপুরে বিপুল উৎসাহে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশায় ঘর থেকে বের হওয়াই যেন দায়। বৃহস্পতিবার ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল বেলা ২টায়। তখনো সূর্যের দেখা...



