যশোরের চৌগাছায় ইরি-বোরো মৌসুমে ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আমন ধানের লোকসান পোষাতেই এবার ইরি-বোরো ধান চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে উপজেলাজুড়ে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ ভাগ জমিতে ধান রোপণ করা শুরু হয়েছে। শীত উপেক্ষা করে কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোমর বেঁধে মাঠে কাজ করছেন চাষিরা। এ দিকে শ্রমিক ও বাজারে ডিজেল তেল ও কীটনাশক ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান আবাদে বিঘা প্রতি অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
উপজেরা কৃষি সম্প্রাসারণ অফিসের তথ্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে চৌগাছা উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭২ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন। বোরো আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করতে এ উপজেলায় সরকারিভাবে বিনামূল্যে ৫৩৫০ জন কৃষককে উফশি জাতের পাঁচ কেজি করে ধানের বীজ ও ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার দেয়া হয়। এ ছাড়া ২৩০০ জন কৃষককে দুই কেজি করে উন্নত জাতের হাইব্রিকেট ধানের বীজ দেয়া হয়। গত মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর।

কৃষকরা জানান, বাজারে আমন মৌসুমের ধানের দাম ভালো না পাওয়ায় কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ বছর আমন ধানের ফলন ভালো হলেও বাজারে তেমন দাম না পাওয়ায় বেশ লোকসানের মুখে পড়েন। ফলে আমনের লোকসান পুশাতেই এবার ইরি-বোরো ধান চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা।
উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক সামছুর রহমান, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক লাবলুর রহমান, মৎরাঙ্গা গ্রামের কৃষক হাসান আলীসহ অনেকেই জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে ধান উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে ধানের দাম কম পাওয়া গেছে। তাই কৃষকরা সব ক্ষতি পোষাতেই ইরি-বোরো ধান চাষে বেশি ঝুঁকেছেন। ইতোমধ্যেই উপজেলার অধিকাংশ জমিতেই ধান রোপন করেছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, বাজারে শ্রমিক, ডিজেল তেল, সার ও কীটনাশক ওষুধের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় কৃষকদের ধান চাষে বিঘা প্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এসবের দাম কমে গেলে কৃষকরা ধান চাষে অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তারা।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন জানান, ইরি-বোরো ধান চাষে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এবার চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার ৩০ ভাগ জমিতে ধান রোপণ করা হয়ে গেছে। আশা করছি, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হবে।