দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মেহের আফরোজ চুমকিকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারউজ্জামান। নির্বাচনের পর থেকেই কালীগঞ্জে নৌকা ও ট্রাক প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে চলছে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত চারটি মামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে আসামি করা হয়েছে উভয়পক্ষের ২০ জনকে।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১১ ও ১২ জানুয়ারি) এসব মামলা দায়ের করা হয়।

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, এসব মামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১৬ জন এবং নৌকার প্রার্থীর চারজন সমর্থককে আসামি করা হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার (৮ জানুয়ারি) জামালপুর ইউনিয়নের চান্দের বাগ চৌরাস্তা মোড় এলাকায় নৌকা প্রতীকের সমর্থক আতাউর রহমানকে (৪০) মারধরের ঘটনায় তার ভাই মতিউর রহমান মামলা দায়ের করে। মামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক নারগানা এলাকার মোমেন (৪৮), নাইমুল (১৯), নিরব (১৮), বালিয়াভিটা এলাকার আনোয়ার হোসেন (৪৮), আওলাদ (৪৭), নারগানা এলাকার এনামুল কাজী (৩০), বালিয়াভিটা এলাকার মনির (৫২) এবং জাকির হোসেনের (৩৮) নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৫০ জনকে আসামী করা হয়।

অপরদিকে চান্দেরবাগ এলাকায় ট্রাক প্রতীকের সমর্থক সৌদি প্রবাসী বালিয়াভিটা এলাকার রাজিব শেখকে (৩১) মারধরের অভিযোগে তার বাবা আবু তৈয়ব শেখ নৌকার সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয় নির্বাচনে ট্রাক প্রতীক জয় পাওয়ার পরদিন সোমবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ভুক্তভোগী রাজিব শেখ জামালপুর ইউনিয়নের চান্দেরবাগ বাজারে গেলে তাকে নৌকার সমর্থকরা স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোস্তফা কামালের সামনে হুমকি-ধামকি দেয় এবং মারধর করে। মামলায় নৌকার সমর্থক চান্দের বাগ এলাকার হিরণ (৩৫), ফাইজুল্লাহ (৩০), ইউনুস (৩৬) এবং লিটনের (৪০) নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরোও ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।

মোক্তারপুর ইউনিয়নের রাথুরা এলাকার নৌকার সমর্থক পিয়াস মাহমুদকে এলাকায় খুঁজে না পেয়ে বুধবার (১০ জানুয়ারি) তার বাড়িতে গিয়ে তার মা শারমিন বেগমের (৩৮) কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাক প্রতীকের সমর্থকরা। চাঁদা না পেয়ে তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন শারমিন বেগম। মামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক রাথুরা এলাকার শারফুদ্দিন (৪৮), শাহিন (৩৫) এবং জয়নালের (৪০) নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো আটজনকে আসামি করা হয়।

এছাড়া সোমবার (৮ জানুয়ারি) সকালে মোক্তারপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় নৌকার সমর্থক ব্যবসায়ী জুয়েল শেখের রাথুরা বাজারে থাকা দোকানে হামলা করে ও তাকে মারধর এবং দোকান থেকে লুটপাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক রাথুরা এলাকার রুবেল (৩৭), টিপু (৩০), মাসুম (২৭), সাইফুল (৪৮) এবং জাকিরকে (৪২) আসামি করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাতাব উদ্দিন জানান, নির্বাচন-পরবর্তী কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। অভিযোগের ভিত্তিতে চারটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

তাছাড়া আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।

গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারউজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকলেও আর যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বিগত ১৫ বছরে যাই ঘটুক না কেন, এখন থেকে সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সুন্দর কালীগঞ্জ গড়ার লক্ষে কাজ করতে হবে। রাস্তাঘাট, যাতায়াত, পানি নিষ্কাশন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই আমার মূল লক্ষ্য।’