বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ১৫৪-ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনটি একটি ঐতিহাসিক আসন। ঐতিহাসিক এই কারণে, এ আসনটি পাকিস্তান আমলে দুটো নির্বাচন ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছিল। নির্বাচন দু’টি হলো ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সনে দুটো নির্বাচন। এ দু’টি নির্বাচনী ফলাফল ব্যাপক আলোচনায় এসেছে দেশী-বিদেশী মিডিয়া, এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টি ছিল নান্দাইলের দিকে। ১৯৫৪ সনে যুক্তফ্রন্টের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মরহুম খালেক নেওয়াজ খাঁনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে জাতীয় তিন নেতা, হোসেন শহীদ সোহরায়ার্দী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, নান্দাইলে ভাষন দিতে আসেন।
এছাড়া, ১৯৫৪ নির্বাচনে ছাত্র নেতা খালেক নেওয়াজ হ্যাভিওয়েট প্রার্থী পূর্ব-পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে পরাজিত করেন। ওই নির্বাচনের ফলাফল পুরো পাকিস্তানে ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক কভারেজ পায়। কারণ, নুরুল আমিন ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত বাংলার বঙ্গীয় ব্যবস্থপনা কমিটি স্পীকার নিয়োগ হয়েছিলেন এখান থেকেই। এরপর ১৯৭০ সনের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাধারন নির্বাচনে প্রচারনা চালাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রফিক উদ্দিন ভুইয়ার পক্ষে প্রচারনা চালাতে চন্ডিপাশা স্কুল খেলার মাঠে ভাষণ দেন। ওই নির্বাচনে নুরুল আমিন বিজয়ী হন। সারা পূর্ব-পাকিস্তানে আওয়মী লীগের ১৬৯ আসনের মাঝে নান্দাইল ও চট্টগ্রাম দু’টি আসনে পরাজিত হয়। এই নির্বাচনের ফলাফলে নান্দাইল ইতিহাসে খারাপ নজির সৃষ্টি হয়। কারণ, ৭০-এর নির্বাচন স্বাধীনতা সংগ্রামের সোপান।
স্বাধীনতা পরবর্তী গঠিত ১৫৪-ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনটি ১৩টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ১০৮ পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৯৯ মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৬। এই আসনটি এখন স্বাধীনতার ৫২ বছর পার হচ্ছে। এর মাঝে ১১টি নির্বাচন অতীত হয়েছে। ১১টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছয়বার বিএনপির চারবার, জাতীয় পার্টি (জাপা) একবার আসনটি দখল করে। আসনটিতে তিনবার বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় এমপি নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ দু’বার জাতীয় পার্টি এক বার।
স্বাধীনতার পর ১১টি সংসদ নির্বাচন গঠিত হয়েছে :
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সনে ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাষা সৈনিক জননেতা মরহুম রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি নির্বাচিত হন।
১৯৭৯ সনের ১৮ ফেব্রুয়ারী দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা মরহুম খুররম খাঁন চৌধূরী, ১৯৮৬ সনের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে মরহুম রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া দ্বিতীয় বার এমপি নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে নাই। ১৯৮৮ সনের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বার এমপি হন মরহুম খুররম খাঁন চৌধুরী। ১৯৯১ সনে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আনোয়ারুল হোসেন খাঁন চৌধূরী এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সনের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ একতরফা নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ব্যারিষ্টার জহিরুল ইসলাম খাঁন এমপি হন। এই সংসদ ১৫ দিন স্থায়ী ছিল ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করে নাই। ১৯৯৬ সনে আবারও ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেজর জেনারেল (অবঃ) আব্দুস সালাম আরসিডিএসপিএসসি এমপি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ২০০১ সনে ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেতা মরহুম খুররম খাঁন চৌধুরী চতুর্থবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সনে ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেজর জেনারেল অব: আব্দুস সালাম বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একটি দুঃখজনক ব্যাপার হলো বিগত ৫২ বছরেও এই আসন থেকে পূর্ণমন্ত্রী তো দূরের কথা একজন প্রতিমন্ত্রীও হয়নি।
অবশেষে ৭ জানুয়ারি ২০২৪ সালে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ারুল আবেদীন তুহিনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তৃতীয় মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হয়ে মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম (আরসিডিএসপিএসসি) ঐতিহাসিক নান্দাইলের ৫২ বছরের রেকর্ড ভেঙে বৃহস্পতিবার ১১ তারিখ সন্ধ্যা ৭টাই বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হয়ে শপথ বাক্য পাঠ করেন। এতে নান্দাইলের জনসাধারণকে উচ্ছসিত আনন্দিত হতে দেখা যায় তাদেরকে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন করতও দেখা যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ৪ নম্বর চন্ডিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভূঁইয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম স্যার একজন সৎ নিষ্ঠাবান এবং অমায়িক নেতা তিনি তার জীবনের সবটুকু সময় দেশ ও জনগণের সেবায় কাটিয়েছেন সেনাবাহিনীর ডিজিএফআইয়ের প্রধান থাকার সময় পাহাড়ি এলাকায় তিনি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দমন ও পার্বত্যঞ্চলে শান্তি ফিরেয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন, তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা রাখে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নান্দাইল বাসীর পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের সালাম স্যারকে মন্ত্রীসভায় স্থান দিয়ে সম্মানিত করার জন্য। ইনশাআল্লাহ নান্দাইলের জনগণ জনপদ নদীনালা জেনারেল সালাম স্যারের হাত ধরে উন্নয়নের উচ্চ শিকড়ে পৌছাবে এবং সকল প্রকার অনিয়ম মাদক-দূর্নীতি চাঁদাবাজির অবসান ঘটবে।



