কনকনের ঠান্ডা, সাথে হিমেল বাতাস। তীব্র শীতে নাজেহাল উপকূলের মানুষ। একটু উষ্ণতার জন্য কোথাও খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করেছে তারা। বুধবার সন্ধ্যার পরে বরগুনার বেতাগী পৌর শহরের কয়েকস্থানে খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালের তাপমাত্রা ১১ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাতের তাপমাত্রা ১০ দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ৯২ শতাংশ। এর সাথে থাকবে ঘন কুয়াশা। তবে আরো দু’দিন এমন অবস্থা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলে গভীর রাত থেকে কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে আকাশ। দুপুরে দুই-তিন ঘণ্টা সূর্যের মুখ দেখা গেলেও তাপমাত্রা কম অনুভুত হচ্ছে।

সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে এখনো শীতার্তদের মাঝে তেমন গরম কাপড় বিতরণ করা হয়নি। ভুক্তভোগীদের দাবি, গরম কাপড় বিতরণে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার।

এলাকার সচেতন মহল বলছে, কনকন শীতে ছেলে-মেয়েরাও ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারছে না। নিম্ন আয়ের লোকজন শীতবস্ত্রের অভাবে কাহিল হয়ে পড়ছে।

পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিকশাচালক বিমল পরামানিক আঞ্চালিক ভাষায় বলেন, ‘এই শীত রিকশা চালাতে যাইয়া হাত-পা অবশ অইয়া যায়। কী আর করুম, সোঙসারে (সংসার) খোড়াইক যোগাইতে অইবে, কিস্তির টাহাও (টাকা) যোগাইতে অইবে।’

শীত মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বেতাগী উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘শীত নিবারণে ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গরিব মানুষদের শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা লস্কর বলেন, ‘শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ে। সাধারণত শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই শিশুদের ওপর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। ঠান্ডা লাগলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।’