বরগুনার বেতাগীতেও জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে রয়েছে। মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুড়ি বৃষ্টি এবং উত্তরের হিমেল বাতাসে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এরইমধ্যে বিকেলে বৃষ্টি হয়েছে বরগুনার বেতাগীতে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল বলেন, বৃহস্পতিবার সকালের তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনের সবোর্চ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯৩ শতাংশ। এর সাথে ঘনকুয়াশা ও মেঘ থাকবে। মেঘ কেটে গেলে তাপমাত্রা আরো কমবে। জানুয়ারি মাস জুড়েই এমন অবস্থা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে ঘনকুয়াশা এবং ঠান্ডা বাতাস বইছে। দুপুরে দুই-তিন ঘণ্টার মতো সূর্যের আলো দেখা মিললেও তাপমাত্রা খুবই কম। হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে অনেকে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বেতাগীর কাজিরহাট, লক্ষ্ণীপুরা, হোসনাবাদ ও চান্দখালীতে ঘণ্টাব্যাপী বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পরে ঠান্ডা বাতাসে শীত আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। শীতের কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা এমনিতেই কম। এরমধ্যে বৃষ্টির কারণে জবুথবু অবস্থা সবার। এতে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সব শ্রেণির মানুষের।
সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে এখনো শীতার্তদের মাঝে তেমন গরম কাপড় বিতরণ করা হয়নি। ভুক্তভোগীদের দাবি শীত নিবারণে গরম কাপড় বিতরণে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার।
এলাকার সচেতন মহল বলছেন, হিমেল হাওয়া কনকনে শীত ও কুয়াশা। কনকন শীতে হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসছে। ছেলে-মেয়েরাও ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারছে না। নিম্ন আয়ের লোকজন শীতবস্ত্রের অভাবে এ শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে।
পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ষাটোর্ধ রিকশাচালক রাখাল চন্দ্র ঢালী বলেন, ‘এই শীত রিকশা চালাতে যাইয়া মোর হাত পা অবশ অইয়া যায়। কি আর করুম সোঙসারে (সংসার) খোড়াইক যোগাইতে অইবে, ছেলে-মেয়ের পড়ালেহা খরচ, এছাড়া কিস্তি টাহাও (টাকা) যোগাইতে অইবে।’
শীত মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বেতাগী উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘শীত নিবারণে ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গরিব মানুষদের শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা লস্কর বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ে। সাধারণত শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই শিশুদের ওপর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। ঠান্ডা লাগলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’



