গত ৩ দিনেও সন্ধান মলেনি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরিডুবিতে নিখোঁজ হওয়া ফেরির সহকারী ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ুন কবিরের।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতদিয়া-নৌরুটে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটে রজনীগন্ধা ফেরিডুবি ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ওই ফেরির দ্বিতীয় ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ন কবির নিখোঁজ হন।
নিখোঁজ হুমায়ুন কবিরের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে। বাড়িতে তার সহধর্মিণী দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তিনি বিআইডাব্লিউটিসিতে ২০১১ সালে চাকরিতে যোগদান করেন।
সময় সুযোগের অভাবে ছুটি না মেলায় গত দুই মাস তিনি বাড়িতে যেতে পারেননি। অথচ দুর্ঘটনার দিন ডিউটি শেষ করেই বাড়িতে যাবেন বলে মেয়ের জন্য শীতের পোষাক কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু আর বাড়িতে ফেরা হয়নি হয়নি তার। ফেরি দুর্ঘটনায় নিখোঁজের খবর পাওয়ার থেকেই তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তার পরিবার ফেরি সংশ্লিষ্টরা তাকে খোঁজার কাজে গাফলতি রয়েছে বলে দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
দুর্ঘটনায় কবলিত লোকজনের কথা বলে জানা যায়, ফেরিডুবার পূর্বমুহুতে তিনি সবাইকে সর্তক করেছিলেন। অথচ তিনিই এখন নিখোঁজ।
হুমায়ুনের ছোট ভাই শাওন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ট্রলার নিয়ে ঘাটে গিয়ে ভাইকে খুঁজেছি। কয়েকটি ট্রাক উদ্ধার করা হলেও তার ভাইয়ের কোনো খোঁজ মেলেনি।
ফেরি রজনীগন্ধার স্টাফদের বরাত দিয়ে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম-বাণিজ্য) শাহ মোহাম্মদ খালেদ নেওয়াজ বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে ফেরিটি নদীতে নোঙর করে ছিল। ফেরিতে সাতটি ছোট ও বড় দুটি ট্রাক ছিল। বুধবার সকাল ৮টার পর ফেরিটি ডুবে যেতে থাকে। এ সময় যানবাহনের চালক, সহকারী এবং ফেরিতে কর্মরত লোকজন জীবন রক্ষায় নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল।



