যশোরের চৌগাছা উপজেলায় এবার পাঁচ কোটি টাকার পেঁয়াজের চারা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন মুড়িকাটা পেঁয়াজে লাভবান হওয়ায় এবার শীতকালীন পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন চৌগাছা চাষিরা। পেঁয়াজের চারা ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার শীতকালীন পেঁয়াজের চারা বিক্রি হবে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ হয়েছে।
বিপ্লব ও বাবু হোসেন নামে চৌগাছা উপজেলার ইছাপুর গ্রামের চাষি জানান, তারা প্রত্যেকে প্রায় এক বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। এতে প্রত্যেকের ৫০-৬০ হাজার টাকার মতো লাভ হয়েছে। একই জমিতে শীতকালীন পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছেন তারা। ওই দুই কৃষক জানান, শীতকালীন পেঁয়াজের চারা রোপণে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। পেঁয়াজ ওঠা পর্যন্ত আরো ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। সব ঠিক থাকলে বিঘা প্রতি ৫০ থেকে ৬০ মণ ফলন হবে বলে আশা করছেন তারা। যার বাজার মূল্য হবে কমপক্ষে এক লাখ টাকা। এতে তাদের ৬০-৭০ হাজার টাকা মুনাফা হতে পারে বলে ধারণা করছেন।
চৌগাছার সদরে পেঁয়াজের চারার হাটে আলাপচারিতায় কয়েকজন কৃষক জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ভালো ফলন হওয়ায় তারা অন্যান্য বারের তুলনায় এবার আরো বেশি জমিতে শীতকালীন র্পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন। উপজেলার সুকপুকুরিয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের চাষি আরিফ হোসেন বলেন, বাজার থেকে বীজ কিনে এক বিঘা জমিতে বপন করেছিলাম। বৃষ্টি বেশি হওয়ায় চারার কিছুটা ক্ষতি হয়েছিল। তারপরেও ভালো লাভ পেয়েছি। এক বিঘা জমিতে যে পেঁয়াজ উৎপাদন হবে তার পুরোটাই বাড়তি লাভ।
বাদেখানপুর গ্রামের রিজাউল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেনে বলেন, এ বছরে পেঁয়াজের দাম বেশি পাওয়ায় ধানের পরিবর্তে তিনি পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছেন। এ ছাড়া অনেকেই নতুন করে ড্রাগন ও মাল্টার বাগান করে সেই বাগানের ভেতর পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এ কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে।
পেঁয়াজের চারা কেনাবেচার ব্যবসা করেন উপজেলার মনমতপুর গ্রামের মোতালেব ও গিয়াস উদ্দীন। মোতালেব জানান, তিনি চলতি মৌসুমে এপর্যন্ত প্রায় এক কোটি টাকার চারা বিক্রি করেছেন। এতে তার ১০ লাখ টাকার মতো লাভ কয়েছে। গিয়াস উদ্দীন জানান, তার সাত বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজতলা ছিল। নিজের চারা বিক্রি করা শেষ। এখন অন্য এলাকা থেকে চারা কিনে এনে তিনি বিক্রি করছেন। তিনিও ৫০ লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২৫৫ জন চাষিকে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে এক কেজি করে ‘নাসিক এন-৫৩’ জাতের পেঁয়াজের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার ও নগদ অর্থসহ অন্য সরঞ্জামাদি দেয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আরো জানান, ৮০ হেক্টর জমিতে উপজেলায় শীতকালীন পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করা হয়ে গেছে। চাষি ও চারা ব্যবসায়ীরা জানান, এখনো আরো জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন বলেন, চৌগাছার মাটি পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য খুবই উপযুক্ত। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করায় তারা বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন। এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে।



