মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চুরি-ডাকাতি বেড়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি দেখা দিয়েছে।

থানা পুলিশের নজরদারীর অভাবে উপজেলার বাস্তা-মানিকনগর সড়কের হাতনি চকে গাছের গুঁড়ি ফেলে চার দিনের ব্যবধানে দুইটি ডাকাতি সংঘঠিত হয়েছে।

এছাড়া প্রায় রাতেই এলাকার কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গত ১৭ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে উপজেলার হাতনি ব্রিজের উত্তর পাশে রাস্তায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ ডাকাতদল গাছ ফেলে গরু বোঝাই ট্রাক আটকিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ফেলে। এ সময় পার্শ্ববর্তী চান্দহর এলাকার গরু ব্যবসায়ী জালাল বেপারীর কাছ থেকে আট হাজার, জলিল বেপারীর কাছ থেকে দুই হাজার ৬০০ ও মানিকনগরের কহিনুর বেপারীর কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা ও একটি এনড্রয়েট মোবাইল ফোন লুটে নেয়। ডাকাতদলের দা’য়ের কুপে আহত হন কহিনুর। এর আগে একই স্থানে ১৩ জানুয়ারি রাত পৌনে ৩টার দিকে ডাকাতের কবলে পড়েন বাহরাইন প্রবাসী জামির্ত্তা ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামের সায়েদুল ইসলাম। মুখোশধারী ১০-১২ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল তার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৩৬০ দিনার ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী সায়েদুল ইসলাম থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান।

গত ১১ জানুয়ারি সায়েস্তা ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামে স্কুল শিক্ষক আবু বকরের বাড়িতে দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে নগদ সাড় ১০ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। গত ২৫ ডিসেম্বর ভোর রাতে উপজেলার ধল্লা বাজারে শওকত স্যানিটারি দোকানের চালের টিন খুলে ভেতরে ঢুকে নগদ দুই লাখ টাকা, দুটি সিসি ক্যামেরাসহ ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।

এদিকে ৩১ ডিসেম্বর পৌর এলাকার ঘোনাপাড়া মহল্লার মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় অশোক কুমার বসু ও হারুর অর-রশিদের (হারু) বাড়িতে জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে রুপার অলঙ্কার এবং নগদ টাকা লুটে নেয়। এছাড়া প্রায় রাতেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টিউবওয়েলের মাথা, মটর, ব্যাটারিচালিত অটো-হ্যালোবাইক ও গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জিয়ারুল ইসলাম বলেন, যেখানেই ঘটনা ঘটছে সেখানেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।