সৈয়দপুরের নীলফামারীতে রাতভর টিপ টিপ বৃষ্টির মতো কুয়াশায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। আজ সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুই সপ্তাহ ধরে জেলার তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠা-নামা করছে। এ কারণে উপজেলার সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দু’দিন পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
সোমবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসায় বিদ্যালয় ছুটির এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তারা জানান, ‘এই কনকনে শীতের মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা আবারো ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ানো হবে।‘
এ দিকে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্কুল বন্ধের ঘোষণায় স্কুলে এসে বিপাকে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের না হওয়ায় রাস্তাঘাট, হাটবাজার, রেলস্টেশন বাস টার্মিনালসহ লোকালয়ে মানুষজনের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। সরকারি-বেসরকারি অফিসে চাকরিজীবীরা আসলেও কাজকর্মে চলছে স্থবিরতা। জীবিকার তাগিদে নিম্ন আয়ের মানুষরা বের হলেও কাজ না পেয়ে পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। রিকশা-ভ্যানচালক, দিনমজুর, কৃষি শ্রমিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
কামারপুকুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ‘খুব ঠান্ডা পইড়ছে বাও। আগুনের গোড়ত বইসলে উঠির মনায় না। কাম না কইরলে খামো কি? এই জন্য এই ঠান্ডাত কাম করির নাগেছে।’
সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন, ‘উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্র বেশি অনুভূত হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে নীলফামারীর তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এমন তাপমাত্রা আরো কয়েক দিন থাকতে পারে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা কম।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন বলেন, ‘আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রিপোর্ট করা হয়েছে। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কম হওয়ায় নীলফামারী জেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষকদের সময় মতো স্কুলে যেতে হবে।’
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে আরএমও ডা. নাজমুল হুদা বলেন, ‘শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ সময় চলাফেরায় সবাইকে সাবধান হতে হবে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডা লাগানো একেবারেই যাবে না।’



