গোপনে পরীক্ষার ভেনু পরিবর্তন করে উৎকোচ গ্রহণ ও অন্য চাকরিপ্রার্থীদের না জানিয়ে চারটি পদে চারজনকে নিয়োগে সহযোগিতার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের ইউএনওসহ ১১ জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে। তাড়াশ সহকারী জজ আদালতের বিচারক মো: লোকমান হাকিম মামলাটি সাময়িকভাবে গ্রহণ করে ৩০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন। গত সোমবার মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার তালম ইউনিয়নের পাড়িল গ্রামের হাদিউল ইসলাম, গোন্তা গ্রামের জয় ইসলাম ও ফাতেমা খাতুন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের পেশকার মুনতাসীন মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মামলার অন্য আসামিরা হলেন, গোন্তা আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ টি আর আব্দুল মান্নান, সভাপতি আতিকুর রহমান, তাড়াশ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ও ডিজির প্রতিনিধি মো: আবু নাঈম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ি গ্রামের মো: সেলিম রেজা, লাউতা গ্রামের সাগর ও স্বপ্না খাতুন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোন্তা আলিম মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, নিরাপত্তাকর্মী এবং আয়া পদের চারটি শূন্য পদে ২০২৩ সালের ২৭ জুন মানবজমিন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে মামলার বাদিরা ওই চার প্রার্থীসহ ভিন্ন ভিন্ন পদে যথাযথ নিয়মে আবেদন করেন। এরপর ২০২৩ সালের ২১ জুলাই বিজ্ঞপ্তির তিনটি পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়। পরে একাধিক প্রার্থী টাকা দিয়েও চাকরি পাচ্ছেন না এবং নিয়োগ পরীক্ষাটি স্থগিতের জন্য ২০২৩ সালের ২০ জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মী পদে মো: জয় ইসলাম ও আয়া পদে ফাতেমা খাতুন স্বাক্ষর করেছিলেন। তবুও ২০২৩ সালের ২১ জুলাই নির্ধারিত পরীক্ষার তারিখে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে টাকা দিয়েও প্রতারণার শিকার একজন পরীক্ষা কেন্দ্রে কীটনাশক পান করেন এবং অপর এক প্রার্থী পরীক্ষা কক্ষেই রশি দিয়ে গলায় ফাঁস নেয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জটিল হওয়ায় অত্র নিয়োগের ডিজির প্রতিনিধি মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মাদ আবু নঈম নিয়োগ স্থগিত করে চলে যান।
পরে পরীক্ষার ভেনু পরিবর্তনের জন্য ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মাধ্যম করে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক লিখিত আবেদন করেন ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ টি আর আব্দুল মান্নান। যা ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর লিখিত পত্রে সুপারিশ করেন ইউএনও মো: মোস্তাফিজুর রহমান। মাদরাসার অধ্যক্ষ টি আর আব্দুল মান্নান ও সভাপতি মো: আতিকুর রহমানের যোগসাজশে অবৈধভাবে অন্য কোনো প্রার্থীদের প্রবেশপত্র না দিয়েই গোপনে গত ২৯ ডিসেম্বর ওই চার পদে চারজনকে নিয়োগ সম্পন্ন করে বিল প্রদানের জন্য মাদরাসা অধিফতরে প্রেরণ করা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বাদি পক্ষের আইনজীবী একরামুল হক বলেন, মামলাটি দায়ের পর আদালতে বিবাদিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দাখিল করলে আদালত শুনানিন্তে সভাপতি, অধ্যক্ষ ও নিয়োগপ্রাপ্ত সেলিম রেজা, সাগর ও স্বপ্না খাতুনকে ৩০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন।



