নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানায় বাদি-বিবাদিকে আটকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আশরাফুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন নামের দুই এসআইর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওই দুই কর্মকর্তা ভুক্তভোগীর আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে ঘুষের সেই টাকা ফেরত দিয়ে এসেছেন বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চরপার্বতী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের রুহুল আমিন সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে প্রতিবেশী খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে নোয়াখালী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করলে গত ১৭ জানুয়ারি থানার এএসআই ফরিদ মিয়া নোটিশ জারি করেন।
এর মধ্যে গত সোমবার বিবাদি খোরশেদ আলম ওই সম্পত্তিতে কাজ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি লেগে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে ঘটনাস্থল থেকে উভয়পক্ষের চারজনকে আটক করেন পুলিশের এসআই আশরাফুল ইসলাম। আটকরা হলেন- বাদি রুহুল আমিনের দুই ছেলে আবুল হাসেম (৪২) ও আবুল কাশেম (৩৯) এবং বিবাদি খোরশেদ আলম (৪৮) ও রিয়াদ হোসেন (২৬)। তাদেরকে গত মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়।
পরে একটি সূত্রে জানা যায়, আটক আসামি ছেড়ে দেয়ার কথা বলে বিবাদি খোরশেদ আলমের আত্মীয় নাইমুল হক ইভানের কাছে থানা থেকে এসআই আশরাফুল ইসলাম পাঁচ হাজার এবং এসআই সাজ্জাদ হোসেন ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু টাকা নিয়েও তারা আসামিকে ছেড়ে না দিয়ে কোর্টে চালান করে দেয়ায় আপত্তি তোলে খোরশেদ আলমের পরিবার।
নাইমুল হক ইভান বলেন, খোরশেদ আলম ও রিয়াদকে ছেড়ে দিতে ওসির কথা বলে আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেন এসআই আশরাফ ও সাজ্জাদ। পরে আমাদের লোককে চালান দেয়ায় উকিল দিয়ে আদালত থেকে তাদের জামিন নিতে হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার রাতে আমার বাড়িতে এসে ঘুষের ১৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে যায় পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে এসআই আশরাফুল ইসলামকে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্য দিকে এসআই সাজ্জাদ বলেন, এ ধরনের অনৈতিক কাজ করার প্রশ্নই উঠে না। আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগীরা থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এসআই আশরাফুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন বহাল তবিয়তেই আছেন।