রংপুরের মিঠাপুকুরে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের শ্রমিকরা প্রকল্পে কাজ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজ শেষ করে ও মজুরি না পেয়ে খাদ্যাভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে জনসংখ্যা অনুপাতে মোট ৪১৬৯ জন শ্রমিক দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরির ভিত্তিতে ৪০ দিন কাজ করে। গত ১১ নভেম্বর তারিখে প্রকল্পের কাজ শুরু করে তা শনিবার (৬ জানুয়ারি) সমাপ্ত করে। প্রকল্পের কাজ সমাপ্তের প্রায় ২ মাসের ও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও প্রথম পর্যায়ের কাজের মজুরি বাবদ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের শ্রমিকরা মজুরি বাবদ ৮০০০ করে দুই কিস্তিতে ১৬০০০ টাকা করে মজুরি বাবদ মোট ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৪ হাজার টাকা মোট শ্রমিক মজুরি বাবদ পাওয়ার কথা থাকলে কাজ শেষ করে ও এখন পর্যন্ত প্রথম কিস্তি মজুরি ও পাননি শ্রমিকরা। ফলে শ্রমিকরা কাজ করে মজুরি না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই ধার-দেনা করে ওই কাটা ইতোমধ্যে খরচ করে খেয়ে ফেলছেন। এ দিকে, মজুরির টাকা না পাওয়ায় পাওনাদাররা পাওনা টাকা চাইতে এসে টাকা না পেয়ে শ্রমিকদের সাথে ঝগড়া বিবাদ লেগেই আছে অহরহ।

প্রকল্পের বালুয়া মসিমপুর ইউনিয়ের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘কাজের টাকা ধার-দেনা করে খেয়ে শেষ করেছি। কাজের টাকা এখনো পাইনি। এখন পাওনাদাররা বাড়িতে আসছে ধারের টাকার জন্য। ধারের টাকা কিভাবে পরিশোধ করি আর কিভাবে সংসার চালাই।’

একই প্রকল্পের শ্রমিক খোকা মিয়া জানান, ‘দ্রব্যমূল্যের যে দাম কাজের টাকা ধার-দেনা করে কাজ সমাপ্তের আগেই খরচ হয়ে গেছে। বিল ও পাই নাই। পাওনাদারের অত্যাচারে বাড়িতে থাকা দায় হয়ে গেছে।’

শ্রমিক লাল মিয়া জানান, ‘ধারকর্জ করে করে সংসার চালাচ্ছি কাজের টাকা পেলে পরিশোধ করবো। কাজের শেষের প্রায় দুই মাসেরও অধিক সময় পেরিয়ে গেলে ও এখনো কাজের টাকা পাইনি। দোকানদার আর ধার-দেনাও দিচ্ছে না। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। তার উপর পাওনাদারের অমানবিক অত্যাচারের স্বীকার হচ্ছি প্রায় প্রতিনিয়তই।’

আরেক শ্রমিক আবুল কাশেম জানান, ‘বর্তমানে এলাকায় কাজ নেই। সংসারে খাবারও নেই। দুই সন্তান নিয়ে দুই দিন ধরে অনাহারে আছি। মানুষজন আর ধার-দেনাও দিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের বাঁচাতে আমার স্ত্রী দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে মা-বাবার বাড়িতে চলে গেছে।’

শ্রমিক মজুরী সংক্রান্ত বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহাজান আলী (শাহজাদা) বলেন, ‘আমরা তালিকা করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) জমা দিয়েছি।’

এ দিকে পিআইও বলেন, ‘মজুরি প্রদানের দায়িত্ব আমাদের হাতে নাই।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) (ভারপ্রাপ্ত) রুহুল আমিন বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বিল পাঠানো হয়েছে।’

ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ‘শ্রমিকদের মজুরির বিল বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।’