রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পূর্ব উজানচর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড নলিয়া পাড়ায় আগুনে দুটি পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা, গরু ও ছাগল পুড়ে গেছে। এতে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শীতের প্রকোপ থেকে পশুগুলোকে রক্ষা করতে গোয়াল ঘরে বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই বাল্ব বাস্ট হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।
নলিয়া পাড়ার দরিদ্র কৃষক শাজাহান শেখ ও তার ছেলে শাহিন জানান, গোয়াল ঘর কিছুটা গরম রাখার জন্য ঘরের ভেতরে ২০০ পাওয়ারের বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা হয়েছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিকট শব্দ শুনে তারা ঘুম থেকে উঠে দেখেন গোয়াল ঘরে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। দেখতে না দেখতেই ওই আগুন তাদের বসত ঘরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এর পর চোখের সামনেই তাদের ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
শাজাহান শেখ জানান, আগুন লাগার পরে তার ছেলে শাহিনের স্ত্রী ও তার নবজাতক শিশুকন্যাকে সরিয়ে প্রতিবেশীর বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। এর পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। কিন্তু ততক্ষণে ওই পরিবারের টিনের দুটি বসত ঘর ও একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নেয়া গচ্ছিত ২০ হাজার টাকা, গোয়াল ঘরে থাকা দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু, বড় দুটি ছাগল ও আসবাবপত্রসহ প্রায় সাত লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মোস্তফা মুন্সী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র গতকাল দুপুরে ক্ষতিগ্রস্তরা
ছুটে আসেন।
এর পর চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা, নির্বাহী অফিসারের পক্ষ থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা, গোয়ালন্দ পৌর কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন রনির পক্ষ থেকে তিনি হাজার টাকা ও ১০ দিনের খাবার ও শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়। এ সময় উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শমশের শেখ উপস্থিত ছিলেন।