গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রেজা সাঈদ আল মামুন নামে এক প্রভাষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই ও ভাতিজার বিরুদ্ধে।

রোববার বিকেলে উপজেলার ঢালজোড়া সাজনধারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ভাই ও ভাতিজারা পলাতক রয়েছে।

রেজা সাঈদ আল মামুন উপজেলার ঢালজোড়া ইউনিয়নের সাজনধারা গ্রামের মরহুম আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি চন্দ্রাস্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রেজা সাঈদ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা লতিফপুর টিঅ্যান্ডটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গ্রামে তার অবর্তমানে রেজা সাইদ আল মামুনের পৈতৃক সম্পত্তি তার বড় ভাই মজিবর রহমান ভোগ দখল করে আসছিলো। গত দু’বছর আগে তিনি গ্রামের বাড়ি গিয়ে তার পৈতৃক সম্পত্তি নিজেই ভোগ দখলের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকে তাদের মাঝে রিরোধ দেখা দেয়। একাধিকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামুনের বড় ভাই মজিবুর রহমান, ভাতিজা সুমন ও সেজান হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো। রোববার বিকেল ৩টায় মামুন নিজের জমিতে চাষাবাদের জন্য গেলে পিছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায় বড় ভাই মুজিবুর রহমান, ভাতিজা সুমন ও সেজান। পরে পরিবারের লোকজন তাকে (মামুন) মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথেই তিনি মারা যান।

মামুনের মেয়ে সুমাইয়া শাহরিন সুচি জানান, ‘চাচা মজিবুর রহমান এবং তার দুই ছেলে সুমন ও সেজান জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন যাবত মামুনকে নানাভাবে হয়রানি এবং হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জের ধরে রোববার বিকেলে ফসলের মাঠে কাজ করা অবস্থায় লাঠি দিয়ে এলোপাথারি পিটিয়ে হত্যা করে।’

এ বিষয়ে ঢালজোড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আবুল হাসেম মেম্বার জানান, ‘জমি সংক্রান্ত এবং পারিবারিক বিরোধের জেরেই মামুনকে হত্যা করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনারস্থলে এসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার লাশ উদ্ধার করে।’

কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাব্বির রহমান ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘ মামুনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছ। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে।’

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।