সিংগাইরে পাশের বাড়িতে চলছিল দেবরের ছেলের বৌভাতের অনুষ্ঠান। এরইমধ্যে কখন কে বা কারা চাচিকে খুন করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে গেছে লাশ।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে তরিকুল ইসলাম সোনাই হত্যার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে রোবরার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর গ্রাম থেকে সাফিয়া আক্তার লক্ষীর (৫৬) লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাফিয়া আক্তার লক্ষী ওই গ্রামের মরহুম দরবেশ আলীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের মা।
জানা যায়, সন্ধ্যায় ছেলে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে তালা খুলে ঘরে ঢুকে মায়ের লাশ রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পাশেই ছিল হত্যায় ব্যবহৃত সিলিং ফ্যানের বডি। পরে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে সোমবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন।
লাশের সুরতহালকারী তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিজওয়ান জানান, সিলিং ফ্যানের বডি দিয়ে আঘাত করায় সাফিয়া ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মাথার ডান কানের ওপরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিহতের ছোট ছেলে তরিকুল ইসলাম সোনাই বলেন, আমার কর্মস্থল সাভারের জোড়পুল থেকে বাড়ি ফিরে তালা খুলে ঘরে ঢুকে দেখি উত্তর পাশের রুমে আমার মায়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
তরিকুল অভিযোগ করে বলেন, পাশের বাড়ির আছর উদ্দিনের ছেলে সাঈদ, বিল্লাল ও প্রবাসী রফিকুলদের সাথে বসতবাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে আসছে। ওই জমির ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। এদের কেউ পরিকল্পিতভাবে আমার মাকে হত্যা করতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে খুন হওয়া সাফিয়ার বড় ছেলে রতন একজন মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝে-মধ্যেই মায়ের সাথে তার ঝগড়া হতো। তবে মা ও ছেলের ঝগড়ায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ও স্থানীয় অনেকের ধারণা।
নিহতের ননদ মালেকা আক্তার বলেন, আমার ছোট ভাই কুদ্দুছের ছেলে বাদশাহ মোল্লার বৌভাতের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ওই বাড়িতে দু’বার গিয়ে দেখি ঘর তালাবদ্ধ। পরে সন্ধ্যায় ভাতিজা সোনাইয়ের চিৎকারে এগিয়ে গিয়ে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত ভাবীর লাশ দেখতে পাই।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জিয়ারুল ইসলাম বলেন, খুনের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। কয়েকজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।



