ফেনীর সোনাগাজী ছরছান্দিয়া ইউনিয়নে তিন গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াতের শকুনিয়া খালের ওপর নির্মিত একমাত্র সেতুটির সাথে সংযোগ সড়কের কোনো অস্তিস্ত না থাকায় বাঁশ ও কাঠের সাঁকোই সেতু পারাপারের একমাত্র ভরসা।
তিন বছর আগে অপরিকল্পিত খাল খননে কারণে সেতুর দু’প্রান্তের সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় চলাচলকারী তিন গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। শুকনো মৌসুমে সাঁকো তৈরি করে চলাফেরা করা হয়। বর্ষা এলে পানির স্রোতে ভেঙে যায়।
এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনাগাজী উপজেলার চর ছান্দিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শকুনিয়া খালের ওপর ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরে চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চলাচলের সুবিধার্থে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করেন। এ সেতুটি দিয়ে চরছান্দিয়া, নবীউল্যার বাজার, চরদরবেশ, উত্তর চরছান্দিয়া, জমাদারবাজার, ইটালি মার্কেট, চরশাহাভিকারী, চানমিয়ার দোকান, লেংগার দোকানসহ তিন গ্রামের হাজারো লোক যাতায়াত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সেতু নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে রেলিং ভেঙে খালে পয়ে যায়। এবং সেতুর পিলারে পলেস্তারা খসে পডতে থাকে। সেতুটি ব্যবহারে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যেগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয় পথচারী কামাল উদ্দিন জানান, সেতুটি ঝুকিপূর্ণ হওয়াতেও মানুষের প্রযোজনে ব্যবহার হচ্ছিল। গত তিন বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক টেন্ডার নিয়ে খাল সংস্কারের নামে অপরিকল্পিতভাবে খননের কারণে সেতুর দু’পাশের মাটি সরে গিয়ে সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে থেকে মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। উপায় না দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী সংযোগ সড়কের স্থলে পারাপারের জন্য বাশঁ ও কাঠ দিয়ে সাকোঁ তৈরি করে ব্যবহার করে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুম এলে পানির শ্রোতে বার বার বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায়। স্থানীয়রা আবার জোড়া তালি দিয়ে ব্যবহার করে। তাই তারা বলছে সাঁকোই আমাদের ভরসা। পথচারীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি মাথায় নিয়ে এ সেতু পারাপার হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং কৃষিপণ্য যাতায়াতে জন দূর্ভোগ চরমে উঠেছে।
চরছান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মিলন বলেন, আমি দীর্ঘ দিন এ সেতুটি সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে আবেদন নিবেদন করেছি, কোনো কাজ হচ্ছে না। মানুষের ভোগান্তি লেগেই আছে। সেতুটি সংস্কার বা নতুন তৈরি করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জন দূর্ভোগের বিষয়ে বলেন, চরছান্দিয়ার শকুনিয়া খাল বহু দিনের বড় পুরোনো খাল। সেখানে পুরাতন সেতুটি ভেঙে যাওয়ার খরর শুনেছি। পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



