জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের পাটাধোয়া পাড়া থেকে মৌলভীরচর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অসময়ের এই নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সানন্দবাড়ি বাজার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শত শত বসতভিটা ও ফসলি জমি। ইতোমধ্যে কয়েক শ’ একর ফসলি জমি নদে বিলীন হয়েছে।
অসময়ে নদীভাঙনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা।
সরেজমিন দেখা যায়, সানন্দবাড়ি বাজারের পশ্চিম পাশে পাটাধোয়া পাড়া থেকে মৌলভীরচর এলাকার মণ্ডলপাড়া, মৌলভীরচর মুন্সিপাড়া, চুনালীপাড়া, চিথুলীয়া, বাহির পশ্চিমপাড়া, পশ্চিম পাটাধোয়া পাড়া ও খোলাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। ইতোমধ্যে মণ্ডলপাড়া, মৌলভীরচর মুন্সিপাড়া, চুনালীপাড়া, চিথুলীয়া, বাহির পশ্চিমপাড়া, পশ্চিম পাটাধোয়া পাড়া, খোলাবাড়ী এলাকা নদে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাসে (নভেম্বর-ডিসেম্বর) পাঁচ শতাধিক বসতভিটা, দুই শ’ একর ফসলি জমি, পাটাধোয়া পাড়া জামে মসজিদ ও পাটাধোয়া পাড়া নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসা বিলীন হয়েছে। এ ভাঙন অব্যাহত থাকলে ব্যস্ততম সানন্দবাড়ি বাজার, সানন্দবাড়ি ডিগ্রি কলেজ, সানন্দবাড়ি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সানন্দবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, মৌলভীরচর উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলিম মাদরাসা, সানারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সানন্দবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাটাধোয়া পাড়া ১ নম্বর খোলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পাটাধোয়া পাড়া, মণ্ডলপাড়া, মৌলভীরচর এলাকা ভাঙনে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরআমখাওয়া ইউনিয়নের পশ্চিম পাটাধোয়া পাড়া এলাকায় তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে নদীর পাড়ে বসে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলছিলেন বৃদ্ধ আফছর আলী (৭৬)। ১৪ বছর আগে বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। সেই পুরনো বসতভিটার স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি তিনি। স্মৃতিবিজড়িত সেই বসতভিটার টানে বারবার নদীরপাড়ে চলে আসেন আফছার আলী।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করা হবে।