ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে বিয়ের দাবিতে ভাগ্নের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এক নারী।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামে। অভিযুক্ত ভাগ্নে রুবেল (১৮) ওই গ্রামের আব্দুস সাত্তারে ছেলে।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই নারীকে দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ভিড় করছেন।

রুবেলের আপন মামার স্ত্রী দুই সন্তানের মা ওই নারীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে ভাগ্নে রুবেল। এখন বিয়ে করবে না বলছে। তাই বাধ্য হয়ে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আমজানখোর ইউনিয়নের তারাঞ্জুবাড়ী গ্রামের জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী ওই নারীর সাথে ভাগ্নে রুবেলের দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা পরস্পর মামী-ভাগ্নে হওয়ার কারণে অবাধ মেলামেশা করলেও সমাজের লোকজন তেমন কিছু ভাবতে পারেনি। মামা পেশাগত কারণে ঢাকায় অবস্থায় করার সুযোগে মামীর সাথে সময় কাটাতো রুবেল।

জানা যায়, রুবেলের মামার সাথে ১০ বছর আগে বিয়ে হয় ওই নারীর। তারপর থেকে রুবেল মামার বাড়ি প্রতিনিয়ত যাওয়া-আসা করতো। সে সুযোগে রুবেল সুকৌশলে মামীর বিভিন্ন ছবি মোবাইলে ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তাদের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে গড়ে ওঠে। বিষয়টি উভয় পরিবারের মাঝে জানাজানি হওয়ার পর ওই নারীর বাবা কিছুদিন আগে রুবেলকে মারপিট করে। এতে রুবেল আহত হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেলে মামী-ভাগ্নের প্রেমের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। মামীকে ভাগ্নে রুবেল বিয়ে করবে বললেও পরে সে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে।

এ বিষয়ে অনশনকারী ওই নারী বলেন, ‘রুবেলের সাথে তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক তার। তিন বছর আগে রুবেল তার মামার সাথে ঢাকায় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করে একই সাথে বসবাস করতো। এর পর রুবেল তার মামার ফোন চুরি করে বাড়ি নিয়ে আসার পর আমার ছবি ব্ল্যাকমেইল করার জন্য আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দৈহিক মেলামেশায় জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়ের মাঝে সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়। একপর্যায় সে আমাকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখে। রুবেলের সাথে একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় মিলিত হয়েছি। কিন্তু বিয়ের কথা বলাতে এক মাস ধরে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় রুবেল। তাই বাধ্য হয়ে তার বাড়ির সামনে অবস্থান করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘রুবেল আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’

রুবেলের বাবা সাত্তার হোসেন বলেন, ‘ওই নারী আমার আপন শ্যালকের স্ত্রী। তার দুটি সন্তান আছে। চারিত্রিক সমস্যার কারণেই সে দুটি সন্তান রেখে স্বামীর ঘর ছেড়ে ভাগ্নেকে বিয়ে করতে বাড়িতে এসে অনশন করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রুবেলকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ওই নারী। আর এখন পরিবারকেসহ ব্ল্যাকমেইল করতে এমন অপতৎপরতা শুরু করেছে। যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।’

ওই নারীর স্বামী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি না।’

পাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী রুবেল বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি এবং অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো।’

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ কবির বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’